অনুব্রতর খাসতালুকে টাকার পাহাড়! কেজি কেজি সোনা আর কোটি কোটি টাকা কার?

বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার অন্তর্গত এলাকায় এক পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে আকস্মিক পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং কেজি কেজি সোনা। এই বিশাল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস এবং মালিকানা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের দাবি, এই সমস্ত সম্পত্তি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের। আর এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে অন্তহীন জল্পনা।

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, একসময়ে এই টুলু মন্ডল বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অনুব্রতের হাত ধরে টুলুর উত্থান শুরু হয়। ধীরে ধীরে তিনি রাজ্যের অন্যতম প্রধান পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার মালিকানাধীন রয়েছে একাধিক পাথর খাদান, শত শত ডাম্পার এবং দুটি পেট্রোল পাম্প।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণের বদলের সঙ্গে সঙ্গেই টুলু মন্ডলের ঘনিষ্ঠতার বৃত্তও বদলে যায় বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। বিজেপির দাবি, অনুব্রত মন্ডল জেলে যাওয়ার পর টুলু মন্ডল হাসনের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে চলে আসেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে তিনি শুধু পাথর ব্যবসা নয়, কন্ট্রাক্টরি বা ঠিকাদারি ব্যবসাতেও বিপুল আধিপত্য বিস্তার করেন। অর্থাৎ, শাসকদলের ক্ষমতার কেন্দ্রে যিনি যখন থেকেছেন, তার সঙ্গেই নিবিড় যোগাযোগ রেখে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন এই ব্যবসায়ী।

পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মন্ডলের এক আত্মীয় মিনার মন্ডলের বাড়িতে এই তল্লাশি চালানো হয়। আর সেই তল্লাশিতে যা সামনে এসেছে, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে খোদ তদন্তকারীদেরও। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে রাশি রাশি নগদ টাকা, সোনার বাট এবং সোনার বিস্কুট। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই বিরোধীরা একে দুর্নীতির বরপুত্রদের আসল চিত্র বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপির তরফ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের।

বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, অনুব্রত মন্ডলের আমলে যে দুর্নীতির সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে অনুব্রত কারাগারে যাওয়ার পর সেই সমস্ত কালো টাকা ও অবৈধ উপার্জনের চ্যানেল কাজল শেখের মাধ্যমে পরিচালিত হতে শুরু করে। যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের আগে এই বিপুল সোনা ও টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বীরভূমের রাজনৈতিক তাপমাত্রা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখছে এই টাকার উৎস এবং এর সঙ্গে ঠিক কাদের যোগ রয়েছে।