গ্লাসগোতে ইতিহাস! একদিনে ৩ পদক জিতে চমক দিল ভারত, ঝুলিতে এল সোনা ও রুপো

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে একদিনে অসাধারণ সাফল্যের সুবাদে ভারতের ঝুলিতে এল আরও তিনটি নতুন পদক। প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক এবং ফিল্ডে ইতিহাস গড়ে সোনা জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন দিলীপ মাহাদু গাভিত (Dilip Mahadu Gavit)। একই ইভেন্টে দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুপো নিজের নামে করলেন মহম্মদ বাসিল (Mohammed Basil)। অন্যদিকে, লং জাম্পে নিজের অসামান্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতে অনন্য নজির গড়লেন অভিজ্ঞ অ্যাথলিট মুরলী শ্রীশঙ্কর (Murali Sreeshankar)। এই জোড়া ও তিন পদকের সাফল্যের হাত ধরেই ভারতের মোট পদকসংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়াল ১৫টিতে এবং পদক তালিকার লড়াইয়ে ভারত উঠে এল অষ্টম স্থানে। বর্তমানে ভারতের অর্জিত এই ১৫টি পদকের মধ্যে রয়েছে ৩টি সোনা, ৯টি রুপো এবং ৩টি ব্রোঞ্জ।

দিনের সবচেয়ে বড় ও সেরা সাফল্যটি আসে প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক থেকে। সপ্তম লেনে দৌড় শুরু করে শেষ ৩০ মিটারে চোখধাঁধানো গতি বাড়িয়ে মাত্র ১০.৭১ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করেন মাত্র ২৩ বছর বয়সি তরুণ দিলীপ। সেই সঙ্গে তিনি গড়ে ফেলেন একটি নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ফলে গ্লাসগোতে শর্মিলা ধনকরের পর দ্বিতীয় ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিট হিসেবে সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। মহারাষ্ট্রের নাসিকের বাসিন্দা দিলীপ মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজের ডান হাত হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৭ বছর বয়সে কোচ বজিনাথ কালের নজরে আসার পর তাঁর মূল অ্যাথলেটিক্স যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালের হ্যাংঝাউ এশিয়ান প্যারা গেমসে ৪০০ মিটার টি-৪৭ বিভাগে সোনা জেতার পর এবার আন্তর্জাতিক কমনওয়েলথ মঞ্চেও তিনি শীর্ষস্থান দখল করে নিলেন।

ঠিক একই ইভেন্টে ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন কেরলের তরুণ মহম্মদ বাসিল। জন্ম থেকেই তাঁর ডান হাত নেই। উল্লেখ্য, এ বছর কমনওয়েলথ গেমসের বাছাইপর্বের দৌড়ে তিনি দিলীপকে পিছনে ফেলেছিলেন। তবে গ্লাসগোর মূল ফাইনালে ভারতীয় দুই অ্যাথলিট প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করে দেশের জন্য এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপহার দিলেন।

এর ঠিক কিছু সময় আগে পুরুষদের লং জাম্পে ৮.০৯ মিটার লাফিয়ে নিজের রুপো নিশ্চিত করেন শ্রীশঙ্কর। ম্যাচের শুরুর দিকে নিজের প্রথম দু’টি প্রচেষ্টায় যথাক্রমে ৮.০৩ মিটার ও ৮.০৯ মিটার লাফিয়ে তিনি কিছু সময়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ সোনার পদকের দৌড়েও জোরদার লড়াই চালাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত জামাইকার প্রতিভাবান অ্যাথলিট তাজে গেইল ৮.১৫ মিটার লাফিয়ে সোনা ছিনিয়ে নেন। এছাড়া স্কটল্যান্ডের স্টিফেন ম্যাকেঞ্জি ৮.০৮ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ পদক পান। ভারতের অপর প্রতিযোগী লোকেশ সত্যনাথন ৭.৯৭ মিটার লাফিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন পঞ্চম স্থানে। টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতে প্রথম ভারতীয় লং জাম্পার হিসেবে এক নতুন ও গর্বের নজির গড়লেন শ্রীশঙ্কর।

এদিকে রিংয়ের লড়াইয়ে বক্সিংয়েও ভারতের জয়জয়কার ও সাফল্যের ধারা সমানভাবে বজায় রয়েছে। দেশের তারকা বক্সার সাক্ষী চৌধুরি, অরুন্ধতী চৌধুরি, সচিন সিওয়াচ, অঙ্কুশ পঙ্ঘাল, নরেন্দর বেরওয়াল এবং জেসমিন লাম্বোরিয়া দারুণ লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ জিতে সোজা সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছেন। এর ফলে তাঁদের প্রত্যেকের ঝুলিতে অন্তত একটি করে ব্রোঞ্জ পদক ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এর আগে লাভলিনা বরগোহাঁই, প্রিয়া ঘাংঘাস, প্রীতি পাওয়ার এবং যদুমণি সিংও সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করেছিলেন। সব মিলিয়ে ভারতের মোট ১০ জন বক্সার টুর্নামেন্টের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন, যা এর আগের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসের বক্সিং পদকসংখ্যাকেও পুরোপুরি ছাপিয়ে গিয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty