বন্যায় সর্বস্ব হারাল লাখ লাখ মানুষ! অসমের মর্মান্তিক দুর্দশা দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন বলিউড ডিভা আলিয়া

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসমে প্রতি বছর বর্ষাকাল মানেই এক অভিশপ্ত ও ভয়ানক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্র নদ সহ একাধিক নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। বাঁধ ভেঙে, জলের তোড়ে একের পর এক গ্রাম জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। ভিটেমাটি, বিঘার পর বিঘা আধানির্মিত চাষের জমি এবং হাজার হাজার গবাদি পশু জলের স্রোতে ভেসে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ইতিমধ্যে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্বিষহ জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এই পরিবারগুলোর আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে অসমের বাতাস।

এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট (Alia Bhatt)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসমের এই যন্ত্রণার ছবি ও খবর শেয়ার করে তিনি দেশবাসীকে দ্রুত দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আলিয়া লিখেছেন, নদীর জল যে কতটা ভয়ংকর ও সর্বনাশা রূপ নিতে পারে, তা নিজ চোখে অসমের পরিস্থিতি না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সেখানকার অবস্থা দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই বিপদের মুহূর্তে দুর্গত মানুষগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সাহায্য পাঠানো অত্যন্ত প্রয়োজন। অভিনেত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, বন্যা পরিস্থিতি হয়তো একদিন মিটে যাবে, কিন্তু মানুষগুলো যেভাবে তাদের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছেন, তাতে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাই শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদী সাহায্যও ভীষণভাবে দরকার। তিনি খুব শীঘ্রই সেবামূলক সংস্থাগুলির একটি তালিকা শেয়ার করবেন বলে জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ত্রাণের কাজে সাহায্য করতে পারেন।

শুধু আলিয়া ভাট একা নন, অসমের এই গভীর সংকটকালে বলিউডের একাধিক তারকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সুপারস্টার সলমন খানও অসমে তাঁর ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারও এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সংসদ সদস্যদের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, অসমের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করবে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও হিসাব নির্ধারণ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে অসমে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন প্রতি বছর এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে পড়তে হয় অসমকে? আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকদের মতে, অসমের এই ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে চলা জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবই বারবার এই ধরনের বিধ্বংসী প্রাকৃতিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। প্রতি বর্ষায় ব্রহ্মপুত্রের প্লাবন যেন অসমবাসীর এক চিরন্তন ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই পারে এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে অসমকে রক্ষা করতে।