ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিন খারিজ! গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে কি এবার বড় আইনি বিপাকে প্রাক্তন মন্ত্রী?

রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এই মুহূর্তে এক বিরাট ও চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। তোলাবাজি এবং ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। চুঁচুড়ার প্রথম দায়রা আদালতে প্রাক্তন এই হেভিওয়েট মন্ত্রীর করা আগাম জামিনের আবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই কড়া রায়ের ফলে আইনি সুরক্ষা বা কবচ আর থাকছে না, যার ফলে তদন্তকারী পুলিশের পক্ষে তাঁকে গ্রেফতারে আর কোনো বাধা রইল না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মামলার সরকারি আইনজীবী।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ঠা জুলাই, যখন চন্দননগর পুরনিগমের এক ঠিকাদার প্রদীপ দে সরাসরি থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভয় দেখিয়ে ও নানা কায়দায় তাঁর থেকে ধাপে ধাপে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এই জবরদস্তি মূলক অর্থ আদায় করা হয়। সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে নাম জড়ায় চন্দননগর পুরনিগমের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়ালা, চিফ ইঞ্জিনিয়ার শৈবাল রায় এবং খোদ তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের। পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট তথ্য উঠে আসে যে, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশেই ঠিকাদারের কাছ থেকে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিভিন্ন লোকজনকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, বিধানসভা উৎসবের নামে জোর করে চাঁদা তুলে সেই সরকারি অনুদান ও তহবিল নয়ছয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

এই হাই-প্রোফাইল মামলার জেরে ইতিমধ্যেই চন্দননগর পুরনিগমের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়ালা এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার শৈবাল রায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার চুঁচুড়া জেলা আদালতের প্রথম দায়রা আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে ধৃত প্রাক্তন ডেপুটি মেয়রের জামিনের আর্জি আদালত যেমন খারিজ করে দেয়, তেমনই বড় ধাক্কা খান ইন্দ্রনীল সেনও। তাঁর আইনজীবীরা আদালতের কাছে আগাম জামিনের আবেদন জানালেও বিচারক তা সরাসরি নামঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার এই মামলার আইনি লড়াইয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, ঠিকাদারের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে যে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই শিল্পীদের একাংশ নানা সময়ে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। সরকারি অনুদান বা অনুষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছিলেন অনেকে। তবে এবার সরাসরি তোলাবাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির মতো ফৌজদারি অপরাধের জালে জড়িয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর প্রাক্তন মন্ত্রীর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং পুলিশ প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই এখন গোটা রাজ্যের নজর আটকে রয়েছে।