পেমেন্ট অ্যাপের দিন শেষ? আলাদা কোনো অ্যাপ ছাড়াই এবার সোজা এক্স (X)-এই মিলবে ডেবিট কার্ড ও ক্যাশব্যাক!

মাইক্রোব্লগিং দুনিয়ায় এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব নতুন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করল জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)। ধনকুবের এলন মাস্কের মালিকানাধীন এই নতুন ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এক্স মানি’ (X Money)। এই অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই যেকোনো জায়গায় টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন এবং তার পাশাপাশি তাঁদের জন্য থাকছে ফিজিক্যাল ডেবিট কার্ডের দারুণ সুবিধা। এই বিশেষ ডেবিট কার্ডটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই যেকোনো ইন-স্টোর পেমেন্টসহ দৈনন্দিন জীবনের একাধিক আর্থিক সুবিধা এক ছাদের নিচে উপভোগ করতে পারবেন।
বর্তমানে এলন মাস্কের এই অভিনব পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মটি পরীক্ষামূলকভাবে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চালু করা হয়েছে। তবে এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, যাঁদের কাছে এক্স (X) প্ল্যাটফর্মের মূল অ্যাকাউন্ট অথবা এক্স প্রিমিয়াম ও প্রিমিয়াম প্লাস (Premium & Premium Plus) সাবস্ক্রিপশন রয়েছে, শুধুমাত্র তারাই বর্তমানে এই অভাবনীয় ফিচারের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে, এই মুহূর্তে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য এই পরিষেবা চালু করা হয়নি এবং ভারতে এখন এই পরিষেবা পাওয়া যাবে না।
প্রথাগত পেমেন্ট অ্যাপগুলির সঙ্গে এক্স মানির মূল পার্থক্য কোথায়, তা নিয়ে টেক মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অন্যান্য জনপ্রিয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে যেমন আলাদা আলাদা ডেডিকেটেড অ্যাপ ডাউনলোড করার বাধ্যবাধকতা থাকে, এক্স মানির ক্ষেত্রে সেই ঝামেলা সম্পূর্ণ নেই। এই নতুন এক্স মানি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর সঙ্গেই অত্যন্ত সুকৌশলে সংযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এর জন্য আলাদা করে মোবাইলে কোনো পৃথক অ্যাপ ডাউনলোড করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন পড়বে না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার সময়ই সেখান থেকে দৈনন্দিন ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ অত্যন্ত সহজে করা সম্ভব হবে।
এক্স মানির মাধ্যমে ঠিক কী কী অসাধারণ কাজ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থা। এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ব্যাংকে টাকা ডিপোজিট করা, পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) পেমেন্ট করা এবং ভিসা ডেবিট কার্ডের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ খুব সহজেই করতে পারবেন। এক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত দ্রুত টাকা ট্রান্সফার করাও এর মাধ্যমে সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই সমস্ত আর্থিক লেনদেন করার জন্য ব্যবহারকারীদের কোনো অতিরিক্ত পেমেন্ট চার্জ বা ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ বিল বা জলের বিলের মতো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পেমেন্টের কাজও এর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে।
যদি কোনো ব্যবহারকারী অনলাইন লেনদেনের পাশাপাশি ফিজিক্যাল ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে চান, তবে তাঁদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করলেই পেয়ে যাবেন বিশেষ এক্স ডেবিট কার্ড। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করলে ব্যবহারকারীরা সরাসরি ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই এক্স মানি কি তবে কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক? এই প্রশ্নের জবাবে সংস্থার পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এক্স মানিকে সরাসরি কোনো ব্যাংক বলা যাবে না এবং এটি প্রথাগত ব্যাংকের মতো সম্পূর্ণ কার্যপ্রণালীও পরিচালনা করে না। নিউ জার্সিতে অবস্থিত বিখ্যাত ক্রস রিভার ব্যাংক (Cross River Bank)-এর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমেই এলন মাস্কের এই সংস্থা পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে। এছাড়াও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও বেশ কিছু পার্টনার ব্যাংক যুক্ত রয়েছে।
তাহলে কি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা এই এক্স মানি পরিষেবা ভবিষ্যতে ভারতে আসবে? এই বিষয়ে সরাসরি নিশ্চিত করে কোনো আনুষ্ঠানিক খবর এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এলন মাস্কের সংস্থা এই পরিষেবা বিশ্বব্যাপী বা গ্লোবাল লঞ্চ করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই এক্স মানি পরিষেবা ভারতেও আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।