শ্রাবণের পবিত্র যাত্রায় বড় নির্দেশ! খাবার হোটেলের সাইনবোর্ডে মালিকের নাম লেখা নিয়ে চরম বিতর্ক

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার নাম পরিবর্তন এবং নানা সামাজিক বিধি নিয়ে জল্পনার মধ্যেই এবার পরিস্থিতি আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল আসানসোলের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। আগামী দিনে শহরের প্রতিটি খাবার হোটেলের সাইনবোর্ডে হোটেলের প্রকৃত মালিকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করার জোরালো দাবিতে এবার আসানসোলে জেলাশাসকের দফতরের দ্বারস্থ হয়েছে ‘মুখ্য মার্গ’ সংগঠন। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ের বাইরে সংগঠনের শত শত কর্মী ও সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ ধরে তীব্র স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের হাতে একটি সুনির্দিষ্ট স্মারকলিপি জমা দেন। এই অভিনব অথচ অত্যন্ত স্পর্শকাতর দাবিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শিল্পাঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার ঝড় উঠেছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হোটেল বা খাবারের দোকানগুলোর মালিক হিন্দু কিংবা মুসলমান—যাঁরাই হোন না কেন, সংশ্লিষ্ট হোটেলের সাইনবোর্ডে তাঁদের নাম বা পদবি বড় করে লেখা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই বাধ্যতামূলক করা হোক। এই দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্য মার্গ সংগঠনের সদস্য ও নেতৃত্বরা পবিত্র শ্রাবণ মাসের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পবিত্র মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও শিবভক্তরা কঠোর নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে এবং দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে শিবের মাথায় জল ঢালার উদ্দেশ্যে দূরদূরান্তের তীর্থস্থান যেমন তারকেশ্বর কিংবা বিহারের সুলতানগঞ্জের দিকে রওনা হন। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে উপোস বা ব্রত ভঙ্গ না করে পুণ্যার্থীরা সাধারণত রাস্তার ধারের বিভিন্ন ছোট-বড় হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে থাকেন।

মুখ্য মার্গের অন্যতম প্রবীণ সদস্য অশোক ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে এই দাবির সপক্ষে বিস্তারিত সাফাই দিয়ে বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে দূরদূরান্ত থেকে আসা এই পুণ্যার্থীরা হোটেলে খেয়ে ওঠার পর জানতে পারছেন যে সেই নির্দিষ্ট হোটেলটি তাদের নিজস্ব সম্প্রদায় বা সমজাতির নয়। এই ধরনের ঘটনায় অনেক সময় ওই সমস্ত ধর্মপ্রাণ ভক্তদের মনে গভীর বিভ্রান্তি, মানসিক অস্বস্তি এবং নানা ধরনের খুঁতখুতানি তৈরি হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের সেই ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পবিত্রতা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। অতীতে বাংলা তথা দেশের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানে প্রতিষ্ঠাতা কিংবা প্রোপাইটারের নাম উজ্জ্বল করে লিখে রাখার যে প্রাচীন ও সুপ্রাচীন প্রথা প্রচলিত ছিল, আধুনিক যুগে এসে সেই নিয়ম প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রশাসন সেই পুরনো নিয়ম বা প্রথাকে যদি কঠোর হাতে ফের ফিরিয়ে আনে, তবে সাধারণ মানুষের এই জাতীয় বিভ্রান্তি চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে বলে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস।