মোদীর বিরুদ্ধে মেগা জোটে কৃষক-ছাত্ররা! রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরই বড় রাজনৈতিক ঝড়

ছাত্র আন্দোলনের গণ্ডি পুরোপুরি অতিক্রম করে এবার দেশের কৃষক ও যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ মঞ্চ গড়ার ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গত মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU)-এর বিশিষ্ট নেতা রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র আশুতোষ রানকা-সহ দলের একাধিক প্রবীণ নেতা এবং বিকেইউ-এর প্রভাবশালী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে মূলত দেশজুড়ে কৃষক, ছাত্র এবং যুবসমাজকে একই ছাতার নিচে একত্রিত করে ভবিষ্যতের বৃহত্তর আন্দোলনের নিখুঁত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সিজেপির পক্ষ থেকে জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু শিক্ষা বা নিট সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ইস্যুগুলির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্নদাতা কৃষক ও বেকার যুবকদের দৈনন্দিন বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে একটি সর্বভারতীয় স্তরে সংঘবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলাই এখন তাদের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।
বৈঠক সমাপ্ত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রানকা চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন যে, দেশের বঞ্চিত কৃষক, নিপীড়িত ছাত্র এবং ক্ষুব্ধ যুবসমাজকে একই বিন্দুতে এনে কেন্দ্রের বর্তমান নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে এক রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা লাগাতার আন্দোলন স্থগিত করার মাত্র কয়েক দিনের মাথাতেই এই বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাথমিক দাবিগুলোর পরিধি ছাড়িয়ে এবার জাতীয় স্তরে বড়সড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি।
বৈঠকে সিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ছাত্র আন্দোলনের সময় কেন্দ্র এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেসব ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তার সিংহভাগই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনের কঠোর দাবি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি রাজস্থানের মতো অঞ্চলেও এখনও পর্যন্ত প্রতিবাদী ছাত্রদের বিরুদ্ধে একের পর এক নতুন এফআইআর নথিভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমান এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৈঠকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে সারা দেশে দায়ের হওয়া সমস্ত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে বিশিষ্ট কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের সক্রিয় সমর্থনও চাওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে। সেই সঙ্গে সিজেপির পক্ষ থেকে পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই বিষয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার যদি দ্রুত কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে দেশের সমস্ত প্রধান কৃষক সংগঠন ও যুব সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে খুব শীঘ্রই দেশজুড়ে এক নতুন ও অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন শুরু করা হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে যখন দেশের ছাত্রসমাজ তাদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিল, তখন একাধিকবার সেখানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রবীণ কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত। বিগত গত ২০ জুলাই সিজেপির সুনির্দিষ্ট ডাকে আয়োজিত বহুল আলোচিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সংসদের দিকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা সেই বিশাল মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে প্রবল লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই প্রতিবাদের আগুন দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের একাধিক রাজ্যেও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিবাদের সেই দিনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান ও জোরালো দাবি ছিল, দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক পদত্যাগ। যদিও গত ২৫ জুলাই সেই আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলো প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি সরকার শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেনি বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছে সিজেপি। আর সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই এবার কৃষকদের হাত ধরে রাজধানীতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির পথে হাঁটছে তারা।