নিট আন্দোলনের হিংসায় বড় বিপাকে বিক্ষোভকারীরা! মোট ২০টি এফআইআরের মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টার গুরুতর মামলা

রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিতর্কিত ‘সংসদ চলো’ বিক্ষোভের জেরে সৃষ্ট তীব্র হিংসার ঘটনায় আইনি নোটিশ ও পুলিশি পদক্ষেপ এবার চরমে পৌঁছেছে। গত ২০ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলা এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগে মোট ২০টি চাঞ্চল্যকর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের সূত্রে নিউজ18-কে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই বিশৃঙ্খলার জেরে নথিভুক্ত হওয়া মোট ২০টি এফআইআরের মধ্যে অন্তত তিনটি গুরুতর মামলা সরাসরি খুনের চেষ্টার মতো অপরাধের আওতায় পড়ে এবং বাকিগুলির মধ্যে ১২টি ক্ষেত্রে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়ানোর নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁক ও বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে ধরপাকড়ের প্রতিবাদে ফের একবার বৃহত্তর আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই গত সোমবার গভীর রাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে। পরবর্তীতে রাত ১টা নাগাদ সিজেপি-র অন্যতম প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন যে, বিগত আন্দোলনে আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া সমস্ত আন্দোলনকারীকে নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তবে এই প্রতিশ্রুতির পরেও পুলিশি নথিতে অপরাধের তীব্রতা কমেনি। নথিভুক্ত ২০টি এফআইআরের অন্যতম প্রধান ঘটনা ঘটে গত ২২ জুলাই। ওই দিন হিংসাত্মক বিক্ষোভের মাঝেই দিল্লি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের উপর অতর্কিত প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। অভিযোগ ওঠে, উত্তেজিত ও হিংসাত্মক জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনার একটি হাড়হিম করা ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রবল পাথরবৃষ্টির মধ্যেও ডিসিপি বিনীত কুমার সহ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অন্যান্য পুলিশকর্মীরা আক্রান্ত এসিপিকে কোনোরকমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও প্রাসঙ্গিক আইনি ধারায় কড়া হাতে এই এফআইআরগুলি রুজু করা হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা মেনেই তদন্ত এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি, এই তীব্র সহিংসতার সময়ে নিরাপত্তারক্ষীদের উপর সরাসরি আক্রমণ, সরকারি ও জনবহুল অঞ্চলের বহুমূল্য বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা লুটপাটে নেতৃত্ব প্রদানকারী মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজও জোরকদমে শুরু করে দিয়েছে পুলিশ।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে সিজেপি-কে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো সাধারণ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে উত্তাল বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সি সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মহারাষ্ট্র ও অসমের মতো বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা বা এফআইআর তুলে নেওয়া হলেও, খোদ রাজধানীতে এখনও এ ধরনের কোনো সরকারি বা আইনি নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে সংঘাতের মেঘ এখনও কাটেনি।