কারুর পদদলনের ঘটনায় বিরাট ধাক্কা! নিহতদের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল মাদ্রাজ হাইকোর্টের

মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ু সরকারকে এক বড়সড় আইনি ধাক্কা দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, গত বছর কারুরে মর্মান্তিক পদদলনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারবর্গকে কোনোভাবেই বিশেষ কোটায় বা সহানুভূতির ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া যাবে না। বিচারক সি ভি কার্তিকেয়ন এবং আর শক্তিভেলের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছে। আদালতের স্পষ্ট অভিমত, এইভাবে বাছাই করা কিছু পরিবারকে সরকারি চাকরি প্রদান করা হলে তা সরাসরি ভারতের সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করে, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনের চোখে সমানাধিকার ও সমতার নিখুঁত নিশ্চয়তা প্রদান করে। সরকারের উচিত সর্বদা সংবিধানের কঠোর সীমার মধ্যে থেকেই সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা।

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কারুরে টিভিকে-র একটি রাজনৈতিক সমাবেশে অতিরিক্ত জনসমাগম ও চরম বিশৃঙ্খলার জেরে ভয়াবহ পদদলন ঘটেছিল। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪১ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর গত ১০ জুলাই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় কারুরের পদদলনে নিহত ৪১ জনের পরিবারের মধ্যে ৩২ জন সদস্যের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। সোমবার বিচারপতি কার্তিকেয়ন ও শক্তিভেলের বেঞ্চ সেই সরকারি আদেশ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সরকারি বিভাগগুলিতে সহানুভূতিমূলক ও অন্যান্য কোটায় চাকরির জন্য ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকায় দিন গুনছেন। তাদের সেই ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও প্রয়োজনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শুধুমাত্র একটি বিশেষ দুর্ঘটনার শিকারদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হলে তা একেবারেই অন্যায্য এবং বৈষম্যমূলক। ভবিষ্যতে এর ফলে একই ধরনের অন্য ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও বিশেষ দাবির ঢল নামবে, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকর।

আইনি শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, এই নিয়োগগুলি সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর গণ্ডির মধ্যে এবং বৃহত্তর মানবিক কারণে করা হয়েছে। অতীতে টুটিকোরিনে স্টারলাইট-বিরোধী বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে যেভাবে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছিল, সেই দৃষ্টান্তও আদালতে তুলে ধরা হয়। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল জোরালো সওয়াল করেন যে, এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য ছিল চরম সংকটের মুখে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মৌলিক জীবিকা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবীরা পাল্টা সওয়ালে জানান যে, বর্তমানে তামিলনাড়ুতে প্রায় ৩৯ লক্ষ বেকার যুবক কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং প্রায় ২০ লক্ষ প্রার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে কোনো যথাযথ নিয়মের তোয়াক্কা না করে এইভাবে সরাসরি সরকারি চাকরি বিতরণ করা অন্যান্য যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে চরম অন্যায় ও সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী। এদিকে আদালতের এই রায়ের পর কারুরের পদদলনের ঘটনায় নিহত রবি কৃষ্ণের মা জ্ঞানাম্বিকা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালতের কাছে তাঁর ছেলের পরিবারের জন্য দেওয়া সরকারি চাকরির আদেশটি পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছেন।