জাপানের কুমামোতো উপকূলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প! উপকূলবর্তী এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করল জেএমএ

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ও জনবহুল দ্বীপ কিউশুর (Kyushu) কুমামোটো (Kumamoto) উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের তীব্রতা মাপা হয়েছে ৭.১। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন এবং ‘জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি’ (JMA) দেশের উপকূলবর্তী এলাকার জন্য অবিলম্বে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।

জেএমএ (JMA)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ঠিক বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (গ্রীনিচ মান সময় বা GMT অনুযায়ী সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে) সমুদ্রতলের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল। আবহাওয়া সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাপানের নিজস্ব ‘শিন্ডো’ (Shindo) ভূকম্পন স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা সর্বোচ্চ ৭ পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে, যা মূলত ভূমির তীব্র কম্পন ও তার শক্তি নির্দেশ করে।

সুনামির চরম সতর্কতা ও সরকারি সম্প্রচার:
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কড়া সতর্কবার্তা জারি করে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুট উচ্চ পর্যন্ত সুনামির ঢেউ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার মধ্যেই উপকূলের বিভিন্ন অংশে আছড়ে পড়তে পারে। জাপানের প্রধান সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘এনএইচকে’ (NHK) সূত্রে জানা গেছে যে, ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট উপকূলবর্তী এলাকায় ওই নির্দিষ্ট উচ্চতার ছোট আকারের সুনামির ঢেউ রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে।

জাপানের ভূমিকম্পপ্রবণ ইতিহাস ও টেকটোনিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, জাপান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলের ঠিক ওপরে অবস্থিত, যেখানে প্রধান চারটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল ও সংঘর্ষের রেখা রয়েছে। এই কারণে জাপানে প্রতি বছর ছোট-বড় শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং সারা বিশ্বে ঘটে চলা মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই এই দেশে হয়ে থাকে। যদিও এর মধ্যে অধিকাংশ ভূকম্পনই তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী হয়, তবে বড় ধরনের ক্ষয়পতির মাত্রা সর্বদা নির্ভর করে ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট অবস্থান, গভীরতা এবং এর কেন্দ্রস্থলের ওপর।

দেশবাসীর মনে ২০১১ সালের স্মৃতি:
২০১১ সালের মার্চ মাসে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা ৯.০ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প এবং তার জেরে সৃষ্টি হওয়া প্রলয়ঙ্করী সুনামিতে প্রায় ১৮,৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল অথবা তাঁরা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই ভয়াল বিপর্যয়ের ফলেই মারাত্মক ‘ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনা’ (Fukushima Nuclear Disaster) ঘটেছিল, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই ঘটনার ক্ষত এবং আতঙ্ক এখনও জাপানবাসীর মনে তাজা রয়েছে।

সাম্প্রতিক অন্যান্য ভূকম্পনের নজির:
এর আগে চলতি বছরের গত ২৫ জুন উত্তর জাপানে ৭.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলেও সৌভাগ্যবশত তাতে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই ৭.৭ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী টোকিওর বহু সুউচ্চ ভবন কেঁপে উঠেছিল এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। সেবার সম্ভাব্য ৮.০ বা তারও বেশি মাত্রার বড় কোনো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় জাপান কর্তৃপক্ষ পুরো এক সপ্তাহের জন্য বিশেষ হাই অ্যালার্ট বা জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল।