রাজা-স্নেহার প্রেমে কি ঈশ্বরের আশীর্বাদ? অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা ধারাবাহিকের আসন্ন পর্ব নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’-র নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। সামনে এসেছে ধারাবাহিকের আগামী পর্বের এক দারুণ ধামাকাদার ও নাটকীয় মোড়, যা গল্পের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে চলেছে।
প্রোমোতে কী দেখা যাচ্ছে?
সামনে আসা নতুন প্রোমো অনুযায়ী, গল্পে আসছে এক বড় চমক। স্নেহা তার নিজের বাড়ি থেকে একটি গোপন দলিল খুঁজে পায়, যেখানে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে তাদের বাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল—সমস্ত সম্পত্তিই ইন্দিরার নামে করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি জানার পর স্নেহা তার মাকে ভুল বোঝে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সে সোজা মাকে প্রশ্ন করে, কেন তাদের কাউকেই না জানিয়ে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত তিনি নিলেন?
বোনের মুখে মাকে এমনভাবে অপমান হতে দেখে আর চুপ করে থাকতে পারে না অন্নপূর্ণার বড় মেয়ে স্বাতী। সে স্নেহাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ওই দলিল তাদের বাবা স্বয়ং মাকে দিয়ে গিয়েছিলেন। আর এই সত্যিটা জানার পরেই স্নেহা আরও বেশি রেগে যায় এবং তক্ষুনি দুই বোনকে নিয়ে সোজা ইন্দিরার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। সেখানে ইন্দিরা তাদের ভয় দেখাতে বা হুমকি দিতে এলে স্নেহা বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে উল্টে জোরালো গলায় প্রতিবাদ করে। সে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, তারা তিন বোন হলো খোদ ‘শিবের ত্রিনয়ন’। যদি কেউ তাদের দিকে হাত বাড়াতে আসে, তবে সে ভস্ম হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ইন্দিরার সমস্ত লুকানো কারসাজি ও চক্রান্ত সে সকলের সামনে ফাঁস করে দেবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। এখন দেখার বিষয়, ইন্দিরার সঙ্গে এই সম্মুখ সমরে জড়িয়ে পড়ে স্নেহা কি বড় কোনো বিপদের মুখে পড়বে?
রাজা ও স্নেহার গল্পে নতুন মোড়:
অন্যদিকে, এই ধারাবাহিকেরই অন্য একটি ট্র্যাক বা সমান্তরাল গল্পে সম্প্রতি দেখানো হয়েছিল, বাড়ির লক্ষ্মী-নারায়ণকে সাক্ষী রেখে রাজা ও শর্মির আশীর্বাদের পাকা কথা দিয়ে ফেলে রাজার মা দুর্গাবতী। সে সাফ জানিয়ে দেয় যে রাজা তার দেওয়া কথা রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত শর্মির সঙ্গেই রাজার বিয়ে হবে। মায়ের মুখে এই কথা শুনে রীতিমতো ঘাবড়ে ও দিশেহারা হয়ে পড়ে রাজা, কারণ সে মনে মনে শুধু স্নেহাকেই ভালোবাসে। নিজের মনের কথা ভগবানকে জানাতে রাজা সোজা কালীতলায় উপস্থিত হয়। ঠিক সেই সময়েই সেখানে কাকতালীয়ভাবে হাজির হন অন্নপূর্ণা। তিনি রাজাকে একটি শাড়ি দিয়ে বলেন যে এটি ভগবানের আশীর্বাদী শাড়ি।
রাজা সেই শাড়ি নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখে যে সেখানে চুপচাপ বসে রয়েছে স্নেহা। যদিও স্নেহা তখন রাজাকে দেখতে পায় না। এরপর রাজা যখন মনে মনে ভগবানের কাছে স্নেহাকে নিজের ভালোবাসার মানুষ হিসেবে পাওয়ার প্রার্থনা জানায়, ঠিক তখনই এক অলৌকিক কাণ্ড ঘটে যায়! হঠাৎ এক ঝোড়ো হাওয়া এসে ওই আশীর্বাদী শাড়িটি উড়িয়ে সোজা রাজা ও স্নেহার মাথার ওপর এনে ফেলে। দৈব এই ইশারা কি তবে ঈশ্বরের আশীর্বাদেই রাজা ও স্নেহার এক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে? আগামী দিনে কোন নতুন মোড় নিতে চলেছে এই ত্রিমুখী গল্প? উত্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দর্শকরা।