‘লক আপ ২’-এ চরম মাস্টারস্ট্রোক! যোগেশকে বের করা নিয়ে সব গোপনীয়তা ফাঁস করলেন ধীরাজ ধূপার

জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’ বর্তমানে বিনোদন জগতের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আর এই শোয়ের অন্যতম চর্চিত প্রতিযোগী তথা জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা ধীরাজ ধূপার বাদ পড়ার পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনে চলেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি শোয়ের অন্দরমহলের সমীকরণ এবং প্রতিযোগীদের কৌশল নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে, যোগেশ রাওয়াতকে শো থেকে বহিস্কার করার যে কৌশলগত সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, তা নিয়ে মুখ খুলে ধীরাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপটি সম্পূর্ণভাবেই তাঁর পূর্বপরিকল্পিত খেলার অংশ ছিল এবং শো-তে নিজের অবস্থান পোক্ত করার জন্য তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সুচিন্তিত।

সাক্ষাৎকারে ধীরাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন যে, যোগেশ রাওয়াতের মতো একজন প্রতিযোগী বাদ পড়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ সতীর্থ আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী কেন তাঁর মুখোমুখি হননি বা তাঁকে কোনো প্রশ্ন করেননি, তা তাঁকে গভীরভাবে অবাক করেছে। তাঁর মতে, কোনো রিয়েলিটি শো-তে খেলতে গিয়ে ঘনিষ্ঠ কোনো খেলোয়াড় বা সতীর্থের এভাবে নাটকীয়ভাবে বাদ পড়ার ঘটনায় যদি কারও মন খারাপ হয় বা আপত্তি থাকে, তবে তাঁর উচিত ছিল সরাসরি সামনে এসে খোলাখুলিভাবে প্রতিবাদ করা।

নিজের সার্বিক গেমপ্ল্যান সম্পর্কে বলতে গিয়ে ধীরাজ ধূপার জানান যে, তিনি কোনো রকম খলনায়কের মুখোশ পরে নয়, বরং নিজের আসল ও স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব নিয়েই এই শো-তে পা রেখেছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “যখন আমি এই শো-তে প্রবেশ করি, তখনই সবাইকে পরিষ্কার বলে দিয়েছিলাম যে আমি এখানে প্রথাগত নোংরা খেলা খেলতে আসিনি, বরং সামগ্রিক পরিস্থিতিকে বদলাতে এসেছি। আজকালকার রিয়েলিটি শো-গুলোর প্রতিযোগীরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যে কেবল তীব্র গালাগালি, ঝগড়া এবং হাতাহাতির মাধ্যমেই স্ক্রিন টাইম পাওয়া বা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু আমি সেই প্রকৃতির মানুষ নই। আমি বাস্তব জীবনেও ঠিক তেমনই, যেমনটা আমাকে ক্যামেরার সামনে দেখা গেছে। আমি কখনোই কোনো দৃশ্য তৈরি করার জন্য বা প্রচার পাওয়ার জন্য অকারণে কারও সাথে কাদা ছোড়াছুড়ি করি না।”

ধীরাজ আরও জানান যে শো থেকে বেরিয়ে আসার পর যখন তিনি সম্প্রচারিত কিছু পর্ব নিজে চোখে দেখেন, তখন তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিল্পা শিন্ডে, শ্রেয়া কালরা এবং আকাঙ্ক্ষা চৌধুরীর মতো প্রতিযোগীদের অত্যন্ত তুচ্ছ ও সামান্য বিষয় নিয়েও চিৎকার করতে এবং শালীনতার মাত্রা পার করতে দেখা গেছে, কিন্তু তিনি কখনোই সেই ধরনের সস্তা প্রতিযোগিতার খেলোয়াড় হতে চাননি।

যোগেশ রাওয়াতকে শো থেকে বের করে দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বলতে গিয়ে ধীরাজ সাফাই দিয়ে বলেন যে এটি পুরোপুরি তাঁর নিজস্ব কৌশলগত গেমপ্ল্যানের অংশ ছিল। তিনি বলেন, “আমি যোগেশকে বের করে দিয়েছিলাম, কিন্তু এর ঠিক পরেই আকাঙ্ক্ষা চৌধুরীর মতো একজন প্রতিযোগী কেন আমার কাছে এসে সরাসরি তর্ক বা কৈফিয়ত চাইল না? আমার সেই সিদ্ধান্তে যদি তার এতটুকুও আপত্তি থাকত, তবে তার সোজাসুজি এসে আমাকে প্রশ্ন করা উচিত ছিল। আমি ক্যামেরার সামনে উত্তর দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি যখন পরবর্তী সময়ে আকাঙ্ক্ষাকে নিজের সেই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি বুঝিয়েছিলেন, তখন সে সহজেই রাজি হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তিনি যখন হর্ষদ চোপড়াকেও প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিয়েছিলেন, তখনও আকাঙ্ক্ষার তরফ থেকে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা প্রশ্ন তোলা হয়নি। এই প্রসঙ্গে ধীরাজ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি কেউ আমার যুক্তির বিরুদ্ধে লড়াই না করে, তবে শুধু ক্যামেরায় নিজের মুখ দেখানোর জন্য বা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে আমি নিজে থেকে কারো সাথে বিনা কারণে ঝগড়া করতে যাব না। ওটা সম্পূর্ণভাবে আমার চাল ও আমার খেলা ছিল, এবং আমি আমার প্রতিটি কাজের সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নিচ্ছি।”

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে ধীরাজ ধূপার এও উল্লেখ করেন যে, এই শো-এর অনেক প্রতিযোগী, যাদের ইতিপূর্বে বিভিন্ন রিয়েলিটি টিভিতে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল, তারা খুব ভালো করেই জানতেন যে কোন মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দিতে হবে এবং কীভাবে স্থায়ীভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে।