ছাগল চুরির সন্দেহ! ঝাড়খণ্ডে উন্মত্ত জনতার নির্মম পিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক যুবক, গুরুতর জখম আরও

ছাগল চুরির ভুল সন্দেহে উন্মত্ত ও বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের নৃশংস গণপ্রহারের জেরে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডে। আইনশৃঙ্খলাকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পিটিয়ে খুনের এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের খন্তি জেলার মুরহু থানার অন্তর্গত রুমুটকেল পঞ্চায়েতের বিন্ডাদিরি গ্রামে। এই নারকীয় কাণ্ডে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত রবিবার গভীর রাতে একটি চারচাকা গাড়িতে করে চারজন যুবক আকস্মিকভাবে বিনদাদিরি গ্রামে এসে পৌঁছায়। অভিযোগ ওঠে যে, তারা ওই গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি ছাগল চুরি করার উদ্দেশ্যে এলাকায় ঘুরাঘুরি করছিল। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই ছাগলের গলার অস্বাভাবিক ও আর্তনাদের শব্দ শুনে স্থানীয় গ্রামবাসীদের গভীর রাতের ঘুম ভেঙে যায়। এরপরই মুহূর্তের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রামবাসীদের একটি বিশাল দল অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গোটা গ্রামটি চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে ওই চার যুবককে হাতেনাতে আটক করে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আতঙ্কিত যুবকদের মধ্যে একজন কোনোমতে ভিড়ের হাত থেকে নিজেদের জোরপূর্বক মুক্ত করে রাতের অন্ধকারে অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে বাকি তিনজনকে উন্মত্ত জনতা ঘিরে ধরে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আক্রোশে অন্ধ হয়ে গ্রামবাসীরা তাদের একটি শক্ত গাছের সঙ্গে নির্মমভাবে বেঁধে ফেলে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে একের পর এক উপর্যুপরি চাবুক ও প্রহার চালাতে থাকে। তাদের আর্তনাদেও মন গলেনি উত্তেজিত জনতার।

এদিকে, ছাগল চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত যুবকদের ওপর পৈশাচিক মারধরের এই গোপন খবর দ্রুত স্থানীয় মুরহু থানার পুলিশের কানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল পুলিশ বাহিনী তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপে গ্রামবাসীদের কবল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তিন যুবককে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি খন্তি সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে দিলদার আনসারি নামের এক যুবক অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে মারা যান।

অন্যদিকে, এই নৃশংস হামলায় মারাত্মকভাবে জহম হওয়া অপর এক ব্যক্তি ফিরোজ আনসারি বর্তমানে খন্তি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থাও যথেষ্ট আশঙ্কাজনক। আহত অপর এক ব্যক্তি নিজাম আনসারীর দেওয়া সুনির্দিষ্ট জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে মুরহু থানা অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কিছু গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে একটি স্বতঃপ্রণোদিত ফৌজদারি মামলা রুজু করেছে। ঝাড়খণ্ডের এই ন্যক্কারজনক গণপ্রহারের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার অবনতিকে আবারও চরমভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।