স্বামী ধর্মেন্দ্রর কড়া বারণ সত্ত্বেও কীভাবে রাজনীতিতে এলেন হেমা মালিনী? ফাঁস হল ‘ড্রিম গার্ল’-এর জীবনের সবচেয়ে বড় সিক্রেট!

হেমা মালিনীর নাম মনে পড়লেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রুপোলি পর্দার চিরসবুজ ‘বাসন্তী’ বা বলিউডের অনবদ্য ‘ড্রিম গার্ল’-এর মুখ। কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রূপোলি দুনিয়ার আলো ঝলমলে ক্যরিয়ার পিছনে ফেলে তিনি এখন পুরোদস্তুর রাজনীতির ময়দানে অত্যন্ত সক্রিয়। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) টিকিটে মথুরার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব সামলে তিনি রাজনৈতিক মহলেও নিজের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছেন। তবে অভিনয়ের চকমক দুনিয়া ছেড়ে রাজনীতির এই কঠিন ও কুটিল ময়দানে পা রাখা কিন্তু তাঁর জন্য একেবারেই সহজ বা মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই প্রকাশ্যে এনেছেন সেই অজানা অধ্যায়, যেখানে তিনি জানিয়েছেন কীভাবে স্বামী ধর্মেন্দ্রর তীব্র বাধা কাটিয়ে এবং একটি বিশেষ শর্ত মেনে অবশেষে তিনি সক্রিয় নির্বাচনে লড়তে রাজি হয়েছিলেন।
এই রাজনৈতিক যাত্রার গল্পটা শুরু হয়েছিল বেশ মজার এক ঘটনার হাত ধরে। ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রথমবার নিজের ঘনিষ্ট বন্ধু বিনোদ খানার হয়ে নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে নেমেছিলেন হেমা। আর ঠিক সেই সময়ই তিনি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ঠিক কতটা গভীরে প্রোথিত। হাজার হাজার মানুষের বাঁধভাঙা ভিড় দেখে তিনি নিজেই দারুণ তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন। এর পরেই তাঁর কাছে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসার সুযোগ এসে পৌঁছয়। তবে স্বামী ধর্মেন্দ্র কিন্তু প্রথম থেকেই এই বিষয়ে বেশ চিন্তিত ও ভীত ছিলেন। জনসমুদ্রের সেই উন্মাদনা আর প্রতিনিয়ত হেলিকপ্টারে চড়ে চষে বেড়ানো দেখে তিনি হেমার নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক ভয় পেতেন। স্ত্রীকে বারবার উদ্বেগের সুরে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, “সত্যিই কি এই রাজনৈতিক ময়দানে নামার এতটুকুও কোনো দরকার আছে?”
ধর্মেন্দ্রর মনে শত ভয় থাকলেও হেমার মা কিন্তু ঠিকই মেয়েকে এই কঠিন পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস জুগিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, এতদিন তো সেলুলয়েডের পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে শুধু বিনোদন দিয়েছ, এবার দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি কিছু করার সুযোগ এসেছে, তা হাতছাড়া করা উচিত নয়। তৎকালীন সময়ে অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবাণীর মতো কিংবদন্তি নেতাদের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও আদর্শের জন্যই তাঁর পরিবার ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখেছিল।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে দলের সামনে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও অটল শর্ত রেখেছিলেন হেমা মালিনী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দল যদি তাঁকে লোকসভার টিকিট দেয়, তবে তিনি দেশের অন্য কোথাও নয়, শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশের পবিত্র মথুরা থেকেই ভোটে লড়বেন। এই শর্তের পেছনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তাঁর আজীবন গভীর ভক্তি ও আত্মিক টান। যদিও প্রাথমিকভাবে মথুরার এই আসনটি অন্য এক নেতার জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু হেমার এই বিশেষ শর্তের কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত দল তাঁকেই সেখান থেকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই গোটা যাত্রাপথে সুষমা স্বরাজ এবং অরুণ জেটলির মতো বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ বিজেপি নেতারা তাঁকে সবরকমভাবে সাহায্য ও সমর্থন করেছিলেন।
আজ দীর্ঘ এত বছর পর যখন তিনি অতীতের দিকে পিছন ফিরে তাকান, তখন মথুরার সাধারণ মানুষের অন্তরের ভালোবাসা ও আস্থাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। স্বামীর মনের আশঙ্কা আর রাজনীতির জটিল পথ সুনিপুণভাবে অতিক্রম করে এভাবেই সেলুলয়েডের ড্রিম গার্ল হয়ে উঠেছেন মথুরার অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয় সাংসদ।