ফাইনালে কেন পদক হাতছাড়া বাংলার প্রতিষ্ঠার? কমনওয়েলথ গেমসের স্কোরের অঙ্কে লুকিয়ে থাকা আসল রহস্য ফাঁস!

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের জিমন্যাস্টিক্স ভল্ট ফাইনালের মঞ্চে নামার সময় ২২ বছরের বঙ্গতনয়া প্রতিষ্ঠা সামন্তর চোখেমুখে ছিল দুরন্ত আত্মবিশ্বাস। ম্যাটের দ্বৈরথে তাঁর পারফরম্যান্সে তেমন কোনো বড় ভুলত্রুটিও চোখে পড়েনি। ল্যান্ডিংয়ে সামান্য একটা পা ফেলা বাদ দিলে প্রায় পুরোটাই ছিল নিখুঁত। কিন্তু এত কিছুর পরেও গলায় উঠল না কোনো পদক। আট জন প্রতিযোগীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত সপ্তম স্থানেই নিজের যাত্রা শেষ করতে হলো তাঁকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এমন ফল হলো? কেন তাঁর এই অদম্য লড়াই পদকের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারল না? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে জিমন্যাস্টিক্সের স্কোরের জটিল অঙ্কে। কারণ এই খেলায় নিছক শারীরিক শিল্পকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত পাটিগণিতই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে।

জিমন্যাস্টিক্সে স্কোরের হিসাব মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত থাকে। যার একটি হলো কাঠিন্যের মাত্রা বা ডি-ভ্যালু (D-Score) এবং অন্যটি হলো এক্সিকিউশন বা পারফরম্যান্স। অর্থাৎ, প্রতিযোগী কতটা কঠিন ভল্ট বেছে নিচ্ছেন, তার ওপরই নির্ভর করে এই ডি-ভ্যালু। প্রতিষ্ঠার দুটি ভল্টের ডি-ভ্যালু ছিল যথাক্রমে ৪.৪ এবং ৪.০। অর্থাৎ, তাঁর মোট বেস পয়েন্ট বা শুরুর নম্বর ছিল ৮.৪। অন্যদিকে, কানাডার লিয়া মনিকা ফনটেইন, যিনি শেষমেশ সোনা জিতেছেন, তাঁর ভল্টের ডি-ভ্যালু ছিল ৫.০ এবং ৪.৮, যা যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৯.৮। খুব সহজ কথায় বলতে গেলে, ম্যাটে লাফানোর আগেই লিয়া অঙ্কের বিচারে প্রতিষ্ঠার চেয়ে এক পয়েন্টেরও বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ফলে প্রতিপক্ষ কোনো চূড়ান্ত ভুল না করলে এই বিশাল ফারাক মেটানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

প্রথম ভল্টে ১২.৭০ এবং দ্বিতীয় ভল্টে ১২.৬৬৬ স্কোর করে প্রতিষ্ঠার সামগ্রিক গড় অঙ্ক দাঁড়ায় ১২.৮৩৩। এর আগে যোগ্যতা অর্জন পর্বেও তিনি সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন এবং ফাইনালেও ঠিক একই স্থানে শেষ করলেন। যেখানে সোনাজয়ী লিয়ার গড় স্কোর ছিল ১৪.০০০, রুপোজয়ী ইংল্যান্ডের অ্যাবিগেইল মার্টিনের ১৩.৭৯৯ এবং ব্রোঞ্জজয়ী ওয়েলসের অ্যাবিগেইল রোপারের স্কোর ছিল ১৩.৪৩৩। এই স্কোরগুলো দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে প্রতিযোগিতার স্তর কতটা উঁচুতে ছিল। তবে প্রতিষ্ঠার এই পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছেন কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে পদকজয়ী প্রাক্তন জিমন্যাস্ট আশিস কুমার। তিনি খুব স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলেছেন যে নিজের ভল্টের কাঠিন্যের মাত্রা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা ফাইনালে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। বিচারকদের কঠোর নজরদারির মাঝেও তিনি কোনো বড় ভুল করেননি। সীমিত সাধ্যের মধ্যে নিজের সেরাটাই নিংড়ে দিয়েছেন তিনি। আগামী দিনে ভল্টের কাঠিন্য আরও বাড়াতে পারলে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত ক্রীড়ামহল।