বিপক্ষকে এক টেবিলে আনলেন স্পিকার! প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল পাস করাতে বড় পথে কেন্দ্র

দেশের লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে সংসদে চলা দীর্ঘ অচলাবস্থার অবশেষে অবসান ঘটল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ফ্লোর লিডারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার ফলে মঙ্গলবার এই বিধায়ক বিলটির ওপর বিস্তারিত বিতর্ক শুরু করতে একমত হয়েছে সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দল।
স্পিকারের মধ্যস্থতা ও ঐকমত্যের পথ
সোমবার অধিবেশনের শুরু থেকেই প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিরোধী শিবির। বিরোধীদের তীব্র হইহট্টগোল ও স্লোগানের মাঝেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং লোকসভায় সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। এরপর উত্তেজনার জেরে দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি রাখতে বাধ্য হন স্পিকার।
তবে সংসদীয় স্তরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত না করে আসরে নামে স্পিকারের দফতর। স্পিকার ওম বিড়লা বিভিন্ন দলের ফ্লোর লিডারদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে বোঝান যে, এই বিষয়টি সরাসরি দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে জড়িত। তাঁর এই সার্থক প্রচেষ্টার ফলেই শাসক এবং বিরোধী—উভয় পক্ষই মঙ্গলবার বিলটির ওপর খোলাখুলি তর্কে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। সংসদীয় ঐতিহ্য মেনে ওম বিড়লার এই উদ্যোগকে গণতন্ত্রের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কী রয়েছে এই বিলে?
পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকল এবং সংগঠিত পরীক্ষা মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চিরতরে খতম করতে এই কঠোর সংশোধনী বিলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবারের ম্যারাথন আলোচনা চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিলের বিভিন্ন ধারায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করার সুযোগ পাবে। প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে এই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলার কথা রয়েছে। বিতর্ক শেষে সমস্ত দলের মতামত ও পরামর্শ খতিয়ে দেখে সরকার তার জবাব দেবে এবং পরবর্তীতে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংসদে পেশ করা হবে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কড়া এই আইন প্রণয়নের পথে সব পক্ষের অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রকে নতুন দিশা দেখাল বলেই মনে করা হচ্ছে।