নিট কাণ্ড: সিওয়ানে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর একে-৪৭ দিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি! সাসপেন্ড অভিযুক্ত পুলিশকর্মী!

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ব্যাপক দুর্নীতির জেরে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের আবহে গত ২৫ জুলাই পালিত ‘বিহার বনধ’-কে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। সিওয়ান জেলায় বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের ছত্রভঙ্গ করতে এক পুলিশকর্মীর একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল থেকে সরাসরি গুলি চালানোর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হওয়ার পরই রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নজিরবিহীন এই পুলিশি বর্বরতার ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং তড়িঘড়ি অভিযুক্ত ওই পুলিশ কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিক্ষোভের সময় একজন পুলিশকর্মী প্রকাশ্যে একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে অন্তত তিন রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন। এই নৃশংস পুলিশি হানায় আহত তিন বিক্ষোভকারী বর্তমানে পাটনার সুপরিচিত জয়প্রভা মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। আহতদের মধ্যে ১৫ বছরের এক কিশোর মহম্মদ আরিফও রয়েছে। তার পরিবারের দাবি, সে স্থানীয় একটি সাধারণ দোকানে কাজ করে। ঘটনার দিন বনধের সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে সে এবং তার ঘাড়ে গুলি লাগে। পরে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে সফলভাবে সেই বুলেট বের করেন।

এই ভয়াবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব সরাসরি দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই চাঞ্চল্যকর ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সংসদ চত্বরে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনের কণ্ঠস্বর রোধ করতে একই কায়দায় দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে—দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের দমাতে যেখানে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে বিহারে সরাসরি একে-৪৭ রাইফেল চালানোর মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটছে।

ঘটনার তীব্র সমালোচনা ও দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন যে সাধারণ মানুষের জীবন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব, কিন্তু নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি ও প্রোটোকল লঙ্ঘন করে এ ধরনের মারণাস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে আসার পর অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই ঘোষিত রাজ্যব্যাপী বনধের অংশ হিসেবে হাজার হাজার পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন এবং একটি বিশাল মিছিল গান্ধী ময়দানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সেই সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডা বাধে, যার জেরে মুহূর্তেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ ভিড়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাসের সেল এবং জলকামান ব্যবহার করে, যা পরবর্তীকালে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।