দেশবিরোধী স্লোগানের প্রতিবাদে আজ তপ্ত কলকাতা! ধর্মতলায় মেগা মিছিলের ডাক বিজেপির, সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা উত্তরবঙ্গ সফর

শুক্রবার বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলির বিতর্কিত ‘ককরোচ’ মিছিলের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। সেই মিছিল থেকে দেশবিরোধী স্লোগান তোলা এবং রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ, সোমবার ঠিক দুপুর ৩টে নাগাদ কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে এক বিশাল জনসমাবেশের ডাক দিয়েছে উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি। শিয়ালদহ থেকে শুরু হয়ে এই প্রতিবাদী মিছিল সোজা ধর্মতলা পর্যন্ত গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি আজ গোটা দিনজুড়ে উত্তরবঙ্গ সফর ও একাধিক হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজকের ব্যস্ত দিনলিপি অনুযায়ী, সকাল ১১টায় চিনার পার্কের নিজ বাসভবন থেকে রওনা হয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বাগডোগরার উদ্দেশ্যে বিমানে পাড়ি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সোজা জলপাইগুড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। এরপর জেলাশাসকের (DM) দপ্তরে গিয়ে সম্প্রতি সিকিমে মর্মান্তিক সুড়ঙ্গ ধস ও বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিক পরিবারগুলির হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেবেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারেই জলপাইগুড়ির ঐতিহাসিক জল্পেশ মন্দিরে পৌঁছে পুজো দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আকাশপথে পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে বিশেষ পূজার অর্ঘ্য নিবেদন করার কথা রয়েছে।
দুপুর ২টো নাগাদ ফের হেলিকপ্টারে চড়ে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাজ্য অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে শিলিগুড়ির বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান রোড উড়ালপুলের ফিতে কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই উড়ালপুল চালিত হলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেল ৪টে নাগাদ বাগডোগরা থেকে কলকাতার বিমান ধরবেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সোজা রাজ্য প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে এসে পৌঁছবেন তিনি। সেখানে শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। একদিকে বামেদের মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে গেরুয়া শিবিরের হুঙ্কার এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এক দিনে ডাবল সফর—সব মিলিয়ে সোমবার দিনভর বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গন চরম উত্তেজনায় সরগরম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।