মোদীকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্টার কান্ডে বিপাকে অভিনেত্রী! থানায় FIR-র হতেই কী বললেন শ্রীলেখা?

শুক্রবার ধর্মতলায় CJP (ককরোচ জনতা পার্টির) ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৈরি হয়েছিল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। আর সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েই তীব্র আইনি বিপাকে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর একটি কুরুচিকর ছবি বা পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে একাধিক থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এই তীব্র সমালোচনার মুখে রবিবার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লাইভে এসে পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন এবং সাফাই দিলেন শ্রীলেখা।

ভিডিওর শুরুতেই অভিনেত্রী জানান, সকাল থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনুরাগীদের থেকে একাধিক ফোন আসায় তাঁর মনে হয়েছে গোটা ঘটনাটি স্পষ্ট করা দরকার। শ্রীলেখার কথায়, “আমি একটা বিশেষ পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি, সেটা ভাইরাল করা হয়েছে। আমি যতই বিজেপি বিরোধী বা মোদী বিরোধী হই না কেন, আমাকে কেউ দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে যেমন সেটা হাস্যকর, তেমনই যদি কেউ মনে করেন আমি ওইরকম ছবি জেনেশুনে ধরে দাঁড়িয়েছিলাম, সেটাও ঠিক নয়।”

আন্দোলনের সেই উত্তাল পরিবেশের বর্ণনা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, দিল্লি থেকে এই পোস্টারগুলি এসেছিল। হাজার হাজার পড়ুয়ার সেই জমায়েত, ঘামের গন্ধ আর রাজপথের বিপ্লবের মধ্যে তিনি প্রথমবার পুলিশি লাঠিচার্জের মুখে পড়ে অন্যান্য যুবকদের সঙ্গে দৌড়েছেন।

চশমা না থাকায় সানগ্লাস পরে আন্দোলনে গিয়েছিলেন বলে জানান শ্রীলেখা। তাঁর দাবি, সেই প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে মোদীর ওই ছবির নীচের অংশের দিকে তাঁর চোখ যাওয়ার কথাই নয়। সাফাই দিয়ে তিনি বলেন, “অধিকাংশ মেয়েরাই পুরুষদের নিম্নাঙ্গ দেখে না। সুতরাং মোদীজির ওরকম একটা ছবি দেখে মজা লেগেছে, কিছু ছেলে যাচ্ছিল পোস্টারটা নিয়ে, সেটা নিয়ে ছবি তুলেছি। দেখিওনি পোস্টারটা ঘুরিয়ে, সময় ছিল না, কারণ পুলিশের লাঠিচার্জ হচ্ছিলো।”

এরপরই অভিনেত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জোর প্রস্তুতি চলছে। বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আপনারা স্লোগান দিয়েছিলেন ‘ভয় আউট ভরসা ইন’, অথচ আদতে মানুষের মনে ভয় ধরানোর চেষ্টা করছেন।

ভিডিওর শেষে একেবারে চ্যালেঞ্জের সুরে শ্রীলেখা বলেন, “আমায় গ্রেফতার করার ইচ্ছা হলে করবেন, ফাঁসিতে চড়াতে হলে চড়াবেন, আবার একটা আন্দোলন হবে। আপনারা তৈরি তো, আমি তৈরি?” উল্লেখ্য, এই ঘটনায় শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় কড়া অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে খবর।