CJP আন্দোলনকে সমর্থন করায় দুই ছাত্রকে মারধর, ভাইরাল BJP নেতার ভিডিও

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরপ্রদেশে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকে সমর্থনকারী দুই পড়ুয়াকে রাস্তায় আটকে প্রকাশ্যেই গালিগালাজ এবং মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। ঘটনার একটি শিহরণ জাগানো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিজেপি এবং উত্তরপ্রদেশের এনডিএ জোটকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব।
এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ওই ভিডিওটি শেয়ার করে অখিলেশ অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও তাদের সহযোগীদের ঔদ্ধত্য এবং দুঃসাহস কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা এই ভিডিও থেকেই পরিষ্কার। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, গাজিয়াবাদভিত্তিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় বীর হিন্দু সেনা’-র নেতা সত্যম পণ্ডিত রাস্তায় দুই ছাত্রকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই ঘটনায়?
চলন্ত গাড়ির সিট থেকেই সত্যম পণ্ডিত প্রথমে ওই দুই ছাত্রের নাম ও পরিচয় জানতে চান। এরপর তিনি কড়া সুরে প্রশ্ন করেন, তাঁরা যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া ও উত্তরপ্রদেশে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করেন কি না।
ছাত্ররা আন্দোলনের সমর্থনের কথা স্বীকার করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নেতা। অভিযোগ, তিনি অত্যন্ত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং এক ছাত্রের কলার ধরে সজোরে চড় মারেন। তাঁর দাবি ছিল, এই আন্দোলন নাকি ‘দেশবিরোধী’, তাই তা কোনোভাবেই সমর্থন করা যাবে না।
ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ছাত্ররা চরম ভয়ের মধ্যেও নিজেদের শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও সত্যম পণ্ডিত আরও চড়াও হন। এমনকি ছাত্রদের ধর্ম সম্পর্কেও কুরুচিকর প্রশ্ন করা হয় এবং ক্যামেরার সামনে ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের জোর করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় তাঁদের দেখতে পেলে ফল মারাত্মক হবে বলেও প্রকাশ্যেই হুমকি দেওয়া হয়।
देशभर के आंदोलनकारियों के सूचनार्थ!
भाजपा और उनके संगी-साथियों के दुर्व्यवहार, दुर्वचनों और हिंसा को सब देख लें। इनका दुस्साहस देखिए कि अभी युवाओं को वचन दिए हुए चंद घंटे भी नहीं हुए हैं और ये भाजपाई अपने इतिहास को दोहराते हुए फिर से धोखा दे रहे हैं। भाजपा के ये संस्कारी नेताजी… pic.twitter.com/DASFibVr11
— Akhilesh Yadav (@yadavakhilesh) July 25, 2026
অখিলেশ যাদবের তীব্র আক্রমণ
এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে সমাজবাদী প্রধান অখিলেশ যাদব এক্সে লেখেন,
“দেখুন এদের দুঃসাহস। যুব সমাজকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির লোকজন কী করছে দেখুন। নিজেদের শীর্ষ নেতৃত্বের দেওয়া আশ্বাসকেই এরা প্রকাশ্যে ভেঙে দিচ্ছে এবং তার ভিডিওও করছে। এটা কি ডাবল ইঞ্জিন সরকারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল? অবিলম্বে এদের গ্রেফতার করতে হবে।”
কে এই সত্যম পণ্ডিত?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্যম পণ্ডিত নিজেকে ‘হিন্দু বীর সেনা’-র সভাপতি বলে দাবি করেন। গাজিয়াবাদের বাসিন্দা সত্যম এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক ও বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। এছাড়া, গত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলবার মাংসের দোকান জোর করে বন্ধ করানোর সময় মাংস ব্যবসায়ীদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগেও গাজিয়াবাদ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। বারবার এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনায় নাম জড়ানোর পরেও তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার প্রশ্রয় পাওয়ার অভিযোগ উঠছে শাসক শিবিরের দিকে।