দলবদল করে নিখোঁজ ছিলেন প্রতীক-উর! হঠাৎ সমাজ মাধ্যমে কার বিরুদ্ধে তুললেন বিস্ফোরক অভিযোগ?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে-আগে সিপিএম-এর উপর একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলবদল করেছিলেন প্রতীক-উর-রহমান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে তিনি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। কিন্তু এর পরেই দলের নির্বাচনী পরাজয় এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে কার্যত রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যমের আড়ালেই চলে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতি নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, ছাত্রসমাজ ধারাবাহিক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর দলের সিনিয়র নেতারা দিল্লিতে পড়ুয়াদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, সেই অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়েও সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন প্রতীক-উর। অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সমাজমাধ্যমে একটি নতুন পোস্ট করলেন তিনি, যেখানে সরাসরি রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন।
সম্প্রতি দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের জোরালো আঁচ এসে পড়েছিল কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায়। গত শুক্রবার বাম ছাত্র-সংগঠনগুলির যৌথ ডাকে প্রচুর সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এদিনের এই পূর্বনির্ধারিত মিছিল নির্দিষ্ট রুট ধরে এগোতেই হঠাৎ ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরও নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর গোটা পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ।
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং অ্যাকশনকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেই শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন প্রতীক-উর-রহমান। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আজ ধর্মতলায় সাধারণ ছাত্রদের উপর পুলিশি জুলুম ও নির্বিচারে লাঠিচার্জকে আমি তীব্র ধিক্কার জানাই।” যদিও তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচালনার মারাত্মক অভিযোগ আনলেও, রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও লাঠিচার্জের কথা স্বীকার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রতীক-উর-রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। তিনিও একসময়ে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলন থেকেই মূল রাজনৈতিক স্রোতে উঠে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বা এসএফআই-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। পরবর্তীতে পুরনো দল ছেড়ে তিনি শাসকদল তৃণমূলে যোগ দেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে তিনি তৃণমূলের সঙ্গেই থাকবেন। এরপর একবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন। তবে সেই ঘটনার পর দীর্ঘকাল তাঁকে প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।
এদিকে, প্রতীক-উর-রহমানের এই হঠাৎ মুখ খোলা এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ঘটনাকে একেবারেই হালকাভাবে নিতে নারাজ বিরোধী শিবির। এই প্রসঙ্গে প্রতীক-উরের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সরব হয়েছেন রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিলীপ ঘোষ। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন, “উনি নিজে কেন ছাত্র আন্দোলনে আর সরাসরি যোগ দিচ্ছেন না? এত বড় মাপের নেতা হয়ে এপার্ট ওপার করে বেড়াচ্ছেন। যে দলেই যাচ্ছেন, সেই দলটাই শেষ পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে। মূলত ছাত্র আন্দোলনকে কোনওরকমে আঁকড়ে ধরে আবারও লাইমলাইটে আসার ও ভেসে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তবে প্রশাসন প্রশাসন তার নিজের নিয়মেই চলবে। আইন আইনের পথেই তার নিজস্ব কাজ করবে। আইনের বাইরে যিনি বা যাঁরা যাবেন, পুলিশ কঠোরহস্তে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”