সোমেই যন্তরমন্তরে মমতা! নিট আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন নিয়ে সরাসরি দিল্লি পুলিশকে কড়া নিশানা!

গত ২১ জুলাই কলকাতার ঐতিহাসিক ভিড়লা তারামণ্ডলের সভা থেকেই দিল্লির আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলার সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সেই ঘোষণাই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। আগামী সোমবার সোজা দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের জমায়েতে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটিই হতে চলেছে তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। স্বভাবতই, এই আন্দোলনে তাঁর যোগদান এবং বিরোধী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হয় কি না, সেই দিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা মমতার

দিল্লি সফরের কথা প্রকাশ্যে আসার দিনই সিজেপির (CJP) আন্দোলন ও নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন মমতা। তিনি লেখেন, “আমি শুরু থেকেই যুবকদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করে আসছি। তাঁরা নিট দুর্নীতির প্রতিবাদ করে ন্যায়ের দাবিতে পথে নেমেছেন। এই লড়াই আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করার লড়াই। কিন্তু তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে দমন করার জন্য দিল্লি পুলিশ হিংসার যে পথ নিয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পড়ুয়াদের নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। লাঠিচার্জ থেকে পেলেট গান, এমনকি টিয়ার গ্যাস পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়নি। পুলিশকে তাদের এই অমানবিক আচরণের জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।”

সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে তিনি আরও লেখেন, কেন্দ্রীয় সরকার চূড়ান্ত ভয় পেয়েছে। তাই যন্তরমন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের বিনা বিচারে আটক করে রাখতে এনএসএ (NSA)-র মতো কঠোর ও কালাকানুন পর্যন্ত প্রয়োগ করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে জোরালো দাবি

প্রধানমন্ত্রীর ‘দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স’ নীতিকে কটাক্ষ করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির কথা বলেন, তখন সিবিআই (CBI) কীভাবে জানায় যে ২০২৪ সালের নিট কাণ্ডের মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অপরাধের প্রমাণ মেলেনি? যারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তারা যদি বারবার এভাবে পার পেয়ে যায়, তবে সরকারের আসল উদ্দেশ্য কী?

দেশজুড়ে উত্তাল এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবি তুলে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের পড়ুয়ারা শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কেন তাঁকে আড়াল করার জন্য সরকার এত মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে? গোটা দেশ ও বিরোধী শিবির আজ এই পড়ুয়াদের পাশে রয়েছে। অসীম সাহসের সঙ্গে যারা মাথা উঁচু করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের আমি কুর্নিশ জানাই।”

মহুয়া মৈত্রের আক্রমণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পাশাপাশি নিট দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চরম আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। বৃহস্পতিবার রাতে করা প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও বার্তার প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাত ১২টায় ভিডিও প্রকাশ করেছেন কারণ তিনি কখনোই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেস মিট করেন না। কিন্তু টেলিপ্রম্পটারের সাহায্য নিয়ে ভিডিও বার্তা না দিয়ে তাঁর কথা যদি সরাসরি সংসদে এসে বলতেন, তবে আমরা বেশি খুশি হতাম। আমাদের সকলের একটাই স্পষ্ট দাবি—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে। তাঁকে না সরিয়ে শিক্ষা সচিবকে সরিয়ে দিয়ে এই ক্ষোভ ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।” সব মিলিয়ে, আগামী সোমবার মমতার দিল্লি সফর এবং যন্তরমন্তরের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন করে পারদ চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।