দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলল দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন! ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অবাক হয়ে দেখলেন ১৪৫ বছরের ইতিহাস!

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা বুক চিরে সাদা ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা আমাদের সেই চিরপরিচিত ছোট্ট ট্রেন আজও গোটা বিশ্বের কাছে এক জীবন্ত বিস্ময়। প্রায় দেড় শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তার জৌলুস ও আবেদন এতটুকুও ম্লান হয়নি। বরং দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য সম্মেলনে ফের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়ে বিশ্বের দরবারে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)।

গত ১৬ থেকে ২৩ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের বিখ্যাত বেকস্কো (BEXCO) কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ম্যানেজার্স ফোরাম’। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার, ICCROM এবং IUCN-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ, নীতি নির্ধারক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এবারের এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বা থিম ছিল— ‘সংযোগ ও যোগাযোগ: বিশ্ব ঐতিহ্য পরিচালনায় অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’।

বিশ্বমঞ্চে দার্জিলিং টয় ট্রেনের জয়যাত্রা

ওই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ভারতের অন্যতম প্রধান গর্ব দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের সফল প্রতিনিধিত্ব করেন ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী। ঐতিহ্য নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ডিএইচআর কীভাবে সাফল্য পেয়েছে, তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। সম্মেলনে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাঁর উপস্থিতি এবং সাবলীল উপস্থাপনা বিদেশি প্রতিনিধিদের দারুণভাবে নজর কেড়েছে।

টয়ট্রেনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল

সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচিতে ডিএইচআরের পৃথক কোনো বিষয় না থাকলেও, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ডিএইচআরের অনন্য সংরক্ষণ পদ্ধতি, রেল পরিচালনার নিখুঁত ব্যবস্থা এবং পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে এর আত্মিক সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সম্মেলন শেষে ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, বিশ্বের বহু দেশের প্রতিনিধি ভবিষ্যতে ভারতে এসে স্বচক্ষে দার্জিলিংয়ের এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে ঘুরে দেখার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রধান কৌতূহল ছিল একটিই— কীভাবে ১৪৫ বছরেরও বেশি পুরনো একটি পাহাড়ি রেলপথ আজও নিয়মিত রেল পরিষেবা চালু রেখেও নিজের প্রাচীন ঐতিহ্যকে এত সুন্দরভাবে অটুট রাখতে পেরেছে? আন্তর্জাতিক মঞ্চে টয় ট্রেনের এই সাফল্য প্রতিটি ভারতবাসীর কাছেই অত্যন্ত গর্বের।