রাস্তায় থুতু বা প্রস্রাব ফেললেই দিতে হবে মোটা জরিমানা! পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে কড়া নিয়ম আনছেন অগ্নিমিত্রা পাল!

রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর পরিষেবা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা স্পষ্ট জানিয়ে তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান একদম স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোথাও ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়ে গেছে, কোথাও বা খুব শীঘ্রই শুরু হবে। তারাতলা বা গার্ডেনরিচের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এই রাজ্যে আর হতে দেওয়া হবে না।”

বিধানসভায় বিরোধীদের আক্রমণ

এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বিরোধীদের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান। পুর পরিষেবার ত্রুটি ও বিল্ডিং সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা বিল্ডিং নির্মাণ ও নিয়মভঙ্গ নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। অথচ আপনাদের আমলেও একাধিক বিল্ডিংয়ের প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আপনার নিজের এলাকাতেই এই ধরণের অবৈধ নির্মাণের সমস্যা সবথেকে বেশি।”

পাশাপাশি, অপর হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি নিশানা করে অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি নিজে শহরের জল জমার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। কাজ কিছুটা চললেও এখনও বহু জায়গায় জল জমে থাকছে। তাঁর প্রশ্ন, “টানা ১৫ বছর সরকারে থেকেও কেন কলকাতার জল জমার স্থায়ী সমাধান করা গেল না? বিগত বছরগুলোতে সেই কোটি কোটি টাকা ঠিক কোথায় গেল?”

তাঁর আরও অভিযোগ, বিগত দিনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় কলকাতাকে সবসময় প্রায় ৫০ শতাংশ তহবিল দেওয়া হলেও উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা উন্নয়নমূলক অনুদান থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছে। প্রভাবশালী মন্ত্রীদের একপেশে নীতির কারণেই কলকাতা বাড়তি সুযোগসুবিধা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম

রাজ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে জনবহুল রাস্তায় বা প্রকাশ্যে যত্রতত্র থুতু ফেললে কিংবা প্রস্রাব করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও আর্থিক জরিমানা করা হবে। আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর থেকেই এই নতুন কড়া নির্দেশিকা কার্যকর হতে চলেছে, যা রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এক বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।