“মাথায় হেলমেট, গাড়ি বদল আর ‘চোর’ স্লোগান!”-হিপ্পিকে ঘিরে যা হল জানলে চমকে যাবেন

আর্থিক প্রতারণা, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে ধৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ওরফে হিপ্পি-কে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে চরম চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে আদালতে পেশ করার সময় চরম গোপনীয়তা ও লুকোচুরি খেলা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আদালতের বাইরে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং ‘চোর চোর’ স্লোগানে চত্বর উত্তাল করে তোলে। এই পুরো ঘটনায় হিপ্পির স্ত্রীকেও জনতার তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
গ্রেপ্তারের পটভূমি ও আদালতের নির্দেশ
বুধবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা থেকে হিপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার দায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। তৃণমূলের আমলে জেলা সভাপতি পদে থাকার সুবাদে দলীয় সংগঠনের পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দরেও হিপ্পির বিরাট প্রভাব ও দাপট ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বিরোধী দল বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হেনস্থা করা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১১ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে তোলার সময় পুলিশের লুকোচুরি ও নাটকীয় পরিস্থিতি
তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যে চরমে রয়েছে, তা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিল পুলিশ প্রশাসন। সেই কারণে নানা কৌশল নেওয়া হয়:
রাতেই মেডিক্যাল টেস্ট: আদালতে তোলার আগে দিনের বেলায় হাঙ্গামা এড়াতে বুধবার গভীর রাতেই তাঁকে কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল।
গাড়ি বদলের খেলা: বৃহস্পতিবার বেলা একটার কিছু আগে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে থানা থেকে একটি ছোট গাড়িতে করে তাঁকে বের করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেই পরিকল্পনা বদলে একটি বড় গাড়িতে তোলা হয়।
ডিম ও বিক্ষোভের মুখে: কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বলয় সত্ত্বেও আদালতের সামনে পৌঁছানোমাত্রই উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে।
শুনানি শেষে প্রিজন ভ্যান বা বড় গাড়ির বদলে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আদালতের অন্য একটি রাস্তা দিয়ে ছোট গাড়িতে করে হিপ্পিকে দ্রুত থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। বিষয়টি বুঝতে পেরে উত্তেজিত লোকজন গাড়িটির পেছনে ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া করলেও শেষ পর্যন্ত গাড়ির নাগাল পাননি। এছাড়া, আদালতে আসা এবং যাওয়ার পথে দু’বারই বিক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি পড়ে হিপ্পির স্ত্রী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তীব্র কথা কাটাকাটি ও তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তাঁকে।
হিপ্পির আইনজীবী নুরুল আমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ধৃত নেতার পক্ষে আদালতে মোট ৩৫ জন আইনজীবী সওয়াল করেন এবং তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি আদালতের বিচারপতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।