প্রথম বলেই বিশ্বকে চমক! দীর্ঘ দুই বছরের চোট সারিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক পেসার মায়াঙ্ক যাদবের

ভারতের তরুণ ও উদীয়মান ফাস্ট বোলার মায়াঙ্ক যাদব দীর্ঘ দুই বছরের দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বমহিমায় ভারতীয় দলে ফিরে এসেছেন। দেশের জার্সিতে প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই নিজের প্রথম ডেলিভারিতে উইকেট শিকার করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন কেন তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বলা হয়। মাত্র ২২ বছর বয়সে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মায়াঙ্ককে বারবার চোট-আঘাতের মতো গুরুতর সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। তবে সেই কঠিন লড়াইয়ের দিনগুলি তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অনবদ্য বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার জিতে নেন মায়াঙ্ক। বিসিসিআই (BCCI)-এর অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় মায়াঙ্ক আবেগঘন কন্ঠে বলেন, “গত দুটি বছর আমার জীবনের সবথেকে কঠিন এবং লম্বা সময় ছিল। ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার জন্য আমি চরম উদগ্রীব হয়ে ছিলাম। আজ ম্যাচের প্রথম বলেই যখন উইকেট পেলাম, তখন বিগত দুই বছরের সমস্ত কষ্ট ও লড়াই যেন সার্থক হয়ে গেল। এই কঠিন সময়টা আমার কেরিয়ারের অত্যন্ত জরুরি একটি পাঠ ছিল।”
ম্যাচের একেবারে প্রথম বলেই জিম্বাবোয়ের ব্যাটার ব্রায়ান বেনেটকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে চমক দেন এই গতি তারকা। নিজের প্রাকৃতিক গতির ওপর অন্ধ আস্থা রেখেই তিনি মাঠে নেমেছিলেন। দীর্ঘ চোট সারিয়ে ফিরে এসেই জোড়া উইকেট শিকার করায় নিজের মনের ওপর থেকে বিরাট চাপের বোঝা নেমে গেছে বলে জানান মায়াঙ্ক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মাঠের বাইরে থাকার সময় আমার ওপর প্রচুর প্রত্যাশার চাপ ছিল। আজ সফলভাবে কামব্যাক করতে পেরে এবং দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছি।”
মায়াঙ্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে জিম্বাবোয়ে দল নির্ধারিত ওভারে মাত্র ১২৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দল মাত্র ৪০ বল বাকি থাকতেই অত্যন্ত সহজেই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করে নেয়। এর মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল মেন ইন ব্লু।