উত্তর থেকে দক্ষিণ ভিজবে পুরো বাংলা! ২৪ ও ২৫ জুলাই কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা

শ্রাবণের সূচনা পর্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলার আবহাওয়াতেও তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর -এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ জুলাই উত্তর থেকে দক্ষিণ—সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় থেকে সমতল, সর্বত্রই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।

উত্তরবঙ্গে পাহাড় ও ডুয়ার্সে ভারী বৃষ্টির ভ্রুকুটি

আলিপুরের আপডেট অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে।

  • ভারী বৃষ্টির জেলা: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার।

  • এই জেলাগুলির এক বা একাধিক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

  • লাগাতার এই বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা (Visibility) অনেকটাই কমে যেতে পারে এবং নিচু ও প্লাবনপ্রবণ এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, দক্ষিণবঙ্গের আকাশেও রয়েছে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি।

  • জেলাগুলির তালিকা: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া—গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

  • আগামী ৪৮ ঘণ্টা জুড়েই এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেন হঠাৎ এই বৃষ্টির তাণ্ডব? আবহাওয়ার জোড়া সিস্টেম

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাজুড়ে বর্তমান এই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতির নেপথ্যে প্রধানত দুটি বড় কারণ সক্রিয় রয়েছে: ১. মৌসুমি অক্ষরেখা (Monsoon Trough): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উঁচুতে মৌসুমি অক্ষরেখা অবস্থান করছে। এটি জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কাঁথি হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অক্ষরেখাটি দক্ষিণ দিকে হেলে পড়েছে। ২. পূর্ব-পশ্চিম ‘শিয়ার জোন’ (Shear Zone): উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী পূর্ব-পশ্চিম শিয়ার জোন অবস্থান করছে।

এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যার ফলেই উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির এই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।