চেকপোস্টে ট্রাক আটকে চাদার জুলুম! মোদী সরকারের কড়া পদক্ষেপে কেল্লাফতে, বরখাস্ত সরকারি অফিসাররা

পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ট্রাক চালকদের ওপর লাগাতার চাঁদাবাজির জেরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গেছে। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে নজিরবিহীন বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের টাকা লুট করার বা অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ের এই সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে, পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত কিছু অসাধু পরিবহন আধিকারিক ও মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর একটি মালবাহী ট্রাককে সম্পূর্ণরূপে অন্যায়ভাবে আটক করেছিলেন। শুধু তাই নয়, অসহায় ট্রাকচালককে অবৈধভাবে হয়রানি করা হয় এবং লাগাতার ঘুষের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। চালক সেই অন্যায় দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করায় চরম হেনস্থা করে তাঁর গাড়িটি পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এই গুরুতর চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন। পরিবহন বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অভিযুক্ত মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টরদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এই ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন যে, বর্তমান সরকারের জমানায় রাজ্যে কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও তোলাবাজি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে এবং আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার ক্ষমতা কারোরই নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অত্যন্ত জোরালো বার্তাটি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট ও কড়া হুশিয়ারি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারের কোনো স্তরের কোনো কর্মকর্তা যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণে জড়িত থাকেন, তবে তাঁকে ছলে-বলে বা কৌশলে রেয়াত করা হবে না। বরঞ্চ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের কঠোরতম শাস্তিমূলক এবং সরাসরি আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলা প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই আপসহীন মনোভাব রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।