‘একটা ইস্তফায় সব পাল্টে যায় না!’ দেশ পরিচালনার পদ্ধতি বদলানোর কড়া বার্তা সোনম ওয়াংচুকের

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির প্রতিবাদে চলা ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র পাশে দাঁড়িয়ে টানা ২৬ দিন আমরণ অনশন করেছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। অবশেষে তাঁর এবং দেশের জেন-জি প্রজন্মের লাগাতার চাপের মুখে পড়ে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক মাসের এই লড়াইয়ের জয়ের পর এটিকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে স্বাগত জানালেও, সোনম ওয়াংচুক পরিষ্কার ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নিছক একটি মন্ত্রীর পদত্যাগেই দেশের সমস্ত সমস্যার রাতারাতি সমাধান হয়ে যায় না। এর জন্য কাঠামোগত সংস্কার ও শাসন ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।

‘শাসন ব্যবস্থার পদ্ধতি বদলাতে হবে’

সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সোনম ওয়াংচুক বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যখন একটি ইতিবাচক সাড়া মিলেছে, তখন আমাদের দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য আরও কাজ চালিয়ে যেতে হবে। একটা ইস্তফায় সব কিছু পাল্টে যায় না। আমাদের গোটা শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল স্বচ্ছতা আনতে হবে। আমি আশা করছি, সরকার যেভাবে উদার মনোভাব দেখিয়ে আমাদের প্রাথমিক দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, তারা আগামী দিনে দেশের বাকি দিকগুলো নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাববে।” এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেন যে, শুধু শিক্ষা দফতর নয়, বরং সামগ্রিক দেশ পরিচালনার নীতিতেও বড়সড় বদল প্রয়োজন। তাঁর কথায়—

“কেন্দ্রকে এবার দেশ চালানোর পদ্ধতি বা শাসনের ধরন বদলানোর কথা গভীরভাবে ভাবতে হবে। যেখানে মানুষের মনে ভয় কাজ করছে, সেই ভয়গুলো দূর করতে হবে। বন্দুক বা জোর খাটিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা এবং ভরসা দিয়ে এই দেশ চালাতে হবে। অন্যায়কে কখনও মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না, সর্বদা সত্যের পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” দীর্ঘ ২৬ দিনের কষ্টকর অনশন শেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও যে লড়াই থেমে থাকছে না এবং দেশের সামগ্রিক শাসন কাঠামোকে আরও বেশি জনমুখী ও স্বচ্ছ করে তোলার দাবি যে তাঁরা জোরালোভাবেই বজায় রাখছেন, সোনমের এই বার্তার মধ্য দিয়ে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল।