চলে যাওয়ার ৪৭ বছর পরও কমেনি ক্রেজ! উত্তমকুমারের স্মরণে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের, চারদিনের মেগা উৎসবের ঘোষণা

বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ বলতেই যে মুখটি আজও সমস্ত বাঙালির হৃদয়ে একচ্ছত্র রাজত্ব করেন, তিনি হলেন উত্তমকুমার। তাঁর মহাপ্রয়াণের দীর্ঘ ৪৭ বছর পরেও তাঁর প্রতি অনুরাগ এবং আবেগ এতটুকু ম্লান হয়নি। বৃহস্পতিবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়কের প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সেখানেই শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, উত্তমকুমারের স্মৃতিকে আরও স্থায়ীভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে আগামী দিনে ধরে রাখতে একাধিক সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মহানায়কের প্রয়াণদিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের তরফে আগেই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এদিন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়কের একটি বিশেষ ফাইবারের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে তাঁর অতুলনীয় অবদান ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু প্রয়াণবার্ষিকীর শ্রদ্ধার্ঘ্যই নয়, এদিনের অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত আগামীদিনের এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি পর্ব।

আসন্ন আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে মহানায়ক উত্তমকুমারের বহুপ্রতীক্ষিত জন্মশতবর্ষ। সেই বিশেষ ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের তরফে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা চার দিনব্যাপী বিশেষ রাজ্যজুড়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চার দিন ধরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন উচ্চমানের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও স্মরণসভার আয়োজন করা হবে। ইতিমধ্যেই দেশের ও রাজ্যের বহু প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট জনেরা এই বিষয়ে একাধিক সৃজনশীল প্রস্তাব সামনে এনেছেন। সকলের একটাই যৌথ লক্ষ্য, বাংলা সিনেমার এই গর্ব ও আইকনকে নতুন প্রজন্মের সামনে আরও অনেক বড় পরিসরে এবং আধুনিক আঙ্গিকে তুলে ধরা।

জন্মশতবর্ষের এই উদযাপনের অঙ্গ হিসেবেই এদিন অন্যতম বড় ঘোষণাটি করা হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মহানায়কের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক ফিল্ম সেন্টার গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা ঐতিহ্যবাহী ‘উত্তম মঞ্চ’-এর সামগ্রিক সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে প্রশাসন। এই সমস্ত পরিকল্পনা সঠিকভাবে রূপায়িত করতে খুব শীঘ্রই নন্দন অথবা রবীন্দ্র সদনে একটি বৃহৎ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুনির্দিষ্ট পরামর্শ মেনেই পরবর্তী সমস্ত কর্মসূচি ও উৎসবের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। একইসঙ্গে প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, মহানায়কের পরিবারের মতামত এবং সম্মতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।