অবশেষে কাটল জট! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসে ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন প্রত্যাহার সোনম ওয়াংচুকের

লাদাখের সংবিধানিক সুরক্ষা, রাজ্যের তকমা এবং পরিবেশগত বিশেষ অধিকারের দাবিতে গত ২৬ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। অবশেষে সরকারের শীর্ষ স্তরের হস্তক্ষেপে সেই দীর্ঘ অনশন আন্দোলনের অবসান ঘটল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ম্যারাথন বৈঠকের পর সন্তোষজনক আশ্বাস মেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ঐতিহাসিক অনশন প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি।
গত প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখের হিমশীতল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এই অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর এই দীর্ঘ ও নাছোড়বান্দা অনশন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি ও সমর্থনও গড়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে আসরে নামে কেন্দ্র। বিজেপি সভাপতি জে.পি. নাড্ডার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সোনম ওয়াংচুক এবং তাঁর সহযোগীদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সোনম ওয়াংচুক গণমাধ্যমকে জানান যে সরকারের তরফ থেকে লাদাখের জনস্বার্থের দাবিগুলির প্রতি গভীর ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সেগুলি বিবেচনা করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মিলেছে। সরকারের এই সদিচ্ছার পরেই তিনি ২৬ দিনের এই ক্লান্তিকর অনশন ভেঙে জল পান করেন। পরিবেশবাদীর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই লাদাখ সহ দেশজুড়ে তাঁর অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। এই সমঝোতার ফলে আগামী দিনে লাদাখ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ রূপায়ণে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বের একটি ইতিবাচক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।