আকাশযুদ্ধে যুগান্তকারী বিপ্লব! ভারতের হাতে এল প্রথম দেশীয় ৩৫০ কেজি থ্রাস্টের টার্বোজেট ইঞ্জিন

প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক অনন্য ও অভূতপূর্ব মাইলফলক অর্জন করল আত্মনির্ভর ভারত। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-এর গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (জিটিআরই) সফলভাবে তৈরি করেছে দেশের প্রথম ৩৫০ কেজি থ্রাস্ট-ক্ষমতা সম্পন্ন সম্পূর্ণ দেশীয় ‘এক্সপেন্ডেবল টার্বোজেট ইঞ্জিন’। এই যুগান্তকারী সাফল্য কেবল ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের আত্মনির্ভরতার যাত্রাকেই আরও বেশি বেগবান করেনি, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকেও অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই অত্যন্ত জটিল ও উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন ইঞ্জিনটি তৈরি এবং নিখুঁতভাবে সংযোজনের গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল হায়দ্রাবাদভিত্তিক স্বনামধন্য প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আজাদ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ওপর। দীর্ঘ গবেষণা এবং উন্নত প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিটি ইঞ্জিনটির যাবতীয় কাজ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২২ জুলাই ডিআরডিও-র জিটিআরই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইঞ্জিনটি হস্তান্তর করা হয়। হায়দ্রাবাদের এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরমূলক অনুষ্ঠানে আজাদ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকেশ চোপদার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিআরডিও-র অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস-এর মহাপরিচালক ড. কে. রাজালক্ষ্মী মেনন এবং জিটিআরই-র সম্মানিত পরিচালক ড. এস.ভি. রমণমূর্তির হাতে এই গর্বের ইঞ্জিনটি তুলে দেন।
বিশেষজ্ঞমহলের মতে, টার্বোজেট ইঞ্জিন নির্মাণ করা বিশ্বের অন্যতম জটিল ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়, যা অর্জন করার ক্ষমতা বর্তমানে গোটা বিশ্বে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র উন্নত দেশেরই রয়েছে। এই অত্যন্ত কঠিন ও স্পর্শকাতর প্রযুক্তিতে ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব দেশীয় সক্ষমতা অর্জন করাকে প্রতিরক্ষা গবেষণার ইতিহাসে একটি বিশাল ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এটি দীর্ঘদিনের অক্লান্ত গবেষণা, নিখুঁত প্রকৌশল জ্ঞান, অত্যাধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ডিআরডিও ও দেশের বেসরকারি শিল্পখাতের মধ্যকার অত্যন্ত জোরালো পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট ফসল।
এই দেশীয় প্রযুক্তির টার্বোজেট ইঞ্জিন উদ্ভাবিত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং দূরপাল্লার চালকবিহীন বিমান বা আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস তৈরির ক্ষেত্রে এই ইঞ্জিনটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর দেশের দীর্ঘদিনের পরনির্ভরতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে এবং ভারতের নিজস্ব দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের বিশাল শিল্প ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় নতুন গতির সঞ্চার হবে।
প্রতিরক্ষা সচিব এবং ডিআরডিও-র বিশিষ্ট চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং এই বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে থাকা জিটিআরই এবং ভারতীয় বেসরকারি শিল্পখাতের মধ্যকার এই অসামান্য অংশীদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতকে পুরোপুরি স্বনির্ভর করে তোলার এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় এই ঐতিহাসিক সাফল্য একটি মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মতে, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বেসরকারি শিল্পখাতের এই পারস্পরিক নিবিড় সহযোগিতার হাত ধরেই আগামী দিনে ভারত আরও বেশি অত্যাধুনিক ও অপ্রতিরোধ্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে।