প্রধানদের ক্ষমতা শেষ! পঞ্চায়েতে দুর্নীতির ভূত তাড়াতে শনিবারই বিধানসভায় আসছে মেগা বিল!

পঞ্চায়েত স্তরের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম চিরতরে রোধ করতে এবার এক ঐতিহাসিক এবং কঠোরতম আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী শনিবার চলতি বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হতে চলেছে। নতুন এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে সমস্ত আর্থিক ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তে এখন থেকে সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও দায়িত্ব ন্যস্ত করা হবে সরকারি পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে।

উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল যে পঞ্চায়েত সচিব এবং পঞ্চায়েত প্রধান যৌথভাবে সই করে যেকোনো আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়া সামলাতেন। নিয়মানুযায়ী, এই দু’জনের যৌথ স্বাক্ষর ছাড়া কোনো দিনই কোনো সরকারি বিল বা চেকের অর্থ পাশ করানো সম্ভব হতো না। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার পঞ্চায়েত ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক তছরুপ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ নিয়মিতভাবে সামনে আসতে শুরু করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে, আর্থিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইতিমধ্যেই একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান জেলও খেটেছেন।

গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এবং স্বনির্ভরতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই মূলত ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। আর্থিক লেনদেনসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা এতদিন পঞ্চায়েত প্রধান এবং নির্বাচিত সদস্যদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প তো বটেই, এমনকি কেন্দ্রের গ্রামীণ উন্নয়নের শত শত কোটি টাকার ফান্ডও সরাসরি পাঠানো হয় পঞ্চায়েত স্তরে। কিন্তু সেই সমস্ত তহবিলের অপব্যবহার ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বর্তমান সরকার গোটা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজানোর জোরালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ হিসেবেই এই আর্থিক ক্ষমতা রদবদলের নতুন বিল আনা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পঞ্চায়েত স্তরের সর্বস্তরে চলা এই লাগামছাড়া চুরি রুখতেই এই বিশেষ বিল আনা হচ্ছে। নতুন নিয়মে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে আর কোনো আর্থিক বা চেক সইয়ের ক্ষমতা থাকবে না। এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বশীল সচিবরাই সমস্ত আর্থিক বিষয়গুলি পরিচালনা করবেন।