‘কাউকে রেয়াত করা হবে না!’ নিট দুর্নীতির জেরে কঠোর হচ্ছে আইন, আজই ঐতিহাসিক বৈঠক

দেশজুড়ে প্রবল জনরোষ ও প্রতিবাদের মুখে পড়ে প্রশ্নফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে এবার ঐতিহাসিক ও কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি দেশজুড়ে যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে কেন্দ্র তৎপর হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষামূলক দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত চক্রগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হচ্ছে। এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও একটি বিশেষ বার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এই বিষয়ে সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখতে শুক্রবারেই ক্যাবিনেটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জরুরি আলোচনা করা হবে। সরকারের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি পেতে হবে। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ঠিক কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা ঘোষণার ঠিক পরেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-কে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী, যুগোপযোগী এবং কঠোর করার জন্য বিশেষ সংশোধনীর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনী বিলটি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা ও অনুমোদন হতে চলেছে। এই নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে অপরাধীদের সাজার মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের গঠন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অপরাধীদের মনে কঠোর আইনের ভয় তৈরি করতে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত দূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।