বিয়ের পিঁড়িতে ছোটপর্দার নতুন নায়িকা! হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন কুমকুম-ইশান?

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কৌতূহল এবং উন্মাদনার অন্ত নেই। সম্প্রতি জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়ালের শুটিং ফ্লোরে ঘটে গেল এক দারুণ ঘটনা। সদ্য বিয়ে হয়েছে সিরিয়ালের জনপ্রিয় চরিত্র কুমকুম ও ইশানের। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হল তাদের? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং পর্দার পেছনের আসল রহস্য ভেদ করতে ‘আজকাল ডট ইন’-এর প্রতিনিধি সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন শুটিং ফ্লোরে। বৃষ্টির ছাঁটে ভেজা এক অলস বিকেলে চিত্রায়ন স্টুডিওর ভেতরে তখন চলছে টানটান উত্তেজনার শুটিং। চারদিকে লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের চেনা ব্যস্ততা।

কুমকুম ও তার মাকে জনসমক্ষে অপমান করার মতো চরম অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ইশান ফ্লোরে এক বিরাট হুলস্থুল কাণ্ড বাধায়। সে শুধু প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত থাকে না, বরং কুমকুমকেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে। কিন্তু নির্মম সমাজ ও পারিপার্শ্বিক কঠিন পরিস্থিতির কাছে শেষ পর্যন্ত মাথা নোয়াতে বাধ্য হয় কুমকুম। একটানা চলতে থাকে কঠিন সব দৃশ্যের রিহার্সাল ও চিত্রায়ণ। কখনো ডিরেক্টরের নির্দেশে নেওয়া হয় ওয়াইড মাস্টার ফ্রেম, আবার কখনো চরিত্রগুলোর আবেগের গভীরতা ফুটিয়ে তুলতে কাসা হয় ক্লোজআপ শট। প্যাক আপের ঘোষণা হতেই শুটিংয়ের ক্লান্তি এসে ভর করে নবাগতা অভিনেত্রী অনুষ্কার ওপরে, যিনি পর্দায় ‘কুমকুম’ নামে পরিচিত।

ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে নতুন মুখ অনুষ্কা। এই সুদূর প্রসারী স্বপ্নপূরণের নেপথ্যে রয়েছে এক আবেগঘন জার্নি। বিকালের এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিয়ে তিনি স্মৃতির পাতায় ডুব দেন। অভিনেত্রী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি নাচ শিখতাম এবং পেশাদারভাবে নাচ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ারই ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আমার মায়ের তীব্র স্বপ্ন ছিল আমাকে একদিন টিভির পর্দায় দেখতে পাওয়ার। মায়ের সেই ছোট্ট স্বপ্নটাই আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দিতাম, আর তারপর একদিন হুট করেই এই সুযোগটা চলে আসে। আমি যখন প্রথম এই কাজের খবরটা পেয়েছিলাম, আনন্দে আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল এবং আমি কেঁদে ফেলেছিলাম।”

পর্দার এই চরিত্রটি থেকে ব্যক্তিগত জীবনে কী শিক্ষা পেলেন? এই প্রশ্নের জবাবে নায়িকা একটু চুপ করে থেকে গভীর ভাবনায় মগ্ন হন। তিনি বলেন, “পুরনো জিনিসকে আরও বেশি করে আগলে রাখতে শিখেছি। এই চরিত্রটার সাথে আমার বাস্তব স্বভাবের অনেক মিল রয়েছে। আমিও নিজের হাতে ছোটখাটো কাজ করতে ভীষণ ভালোবাসি। আর ঠিক কুমকুমের মতোই আমি ভীষণ শান্ত স্বভাবের। সহজে আমার কখনো রাগ হয় না। যদি কখনো মন খারাপ হয়, আমি কারোর সাথে ঝগড়া না করে চুপচাপ এক কোণে বসে থাকি।” দর্শকের একাংশের ধারণা, পর্দার এই কুমকুম বুঝি এখনও স্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। এ কথা শুনতেই একগাল মিষ্টি হেসে অনুষ্কা রহস্য জিইয়ে রেখে বলেন, “আমি তো প্রাইভেটে পড়াশোনা করি। বাকিটা না হয় এখন আর নাই বা বললাম!”

অন্যদিকে, নায়িকার সাথে যখন ফ্লোরে গল্প জমানো চলছিল, তখন পর্দার নায়ককে কোথাও দেখা যাচ্ছিল না। একদিকে কড়া সিনের প্রচণ্ড চাপ, অন্যদিকে ধারাবাহিকের মূল লেখিকার সাথে জরুরি কনফারেন্স কলে ব্যস্ত থাকার কারণে বিকেলের আড্ডায় পুরোপুরি ‘মিসিং’ ছিলেন পর্দার ‘ইশান’ অর্থাৎ জনপ্রিয় অভিনেতা আদৃত রায়। তবে সন্ধের ঠিক একটু আগে ফ্লোরে তাঁর দেখা মিলল। নতুন প্রজেক্ট এবং চরিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আদৃত জানান, “এই প্রথমবার আমাকে পুরোপুরি কোনো ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর চেনা চরিত্রে দেখা যাচ্ছে না। এই চরিত্রটি অত্যন্ত মিষ্টি এবং আলাদা।”

নতুন এই নবাগতা নায়িকার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা ঝটপট উত্তর দিয়ে বলেন, “আমরা সেটে ভীষণ মজা করে কাজ করি। কাস্ট ও ক্রু-র অনেকেই আমার আগের চেনা। অনুষ্কার মধ্যে কাজের প্রতি এক প্রবল আগ্রহ এবং দ্রুত শেখার মানসিকতা রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সেটে ওকে সবসময় সাহায্য করার চেষ্টা করি, যাতে ও খুব সহজেই সিনগুলো মুখস্থ করতে পারে এবং সাবলীলভাবে অভিনয় করতে পারে।” সহ-অভিনেতার এমন প্রশংসাবাক্য শুনে লজ্জায় নিজের মুখ দুই হাতে ঢেকে ফেলেন অনুষ্কা। তাঁর এই অমায়িক লজ্জাই যেন বুঝিয়ে দেয় যে, শুটিংয়ের মাঝে মাঝেই সংলাপ ভুলে যাওয়ার মতো কত শত কাণ্ড তিনি অতীতে ঘটিয়ে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে স্টুডিওর অন্দরের এই জমজমাট পরিবেশ দর্শকদের মনে আগ্রহের পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।