বুলডোজার কাণ্ডের পরই বিস্ফোরক মন্তব্য! তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর!

আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচতলা অফিস বেআইনিভাবে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অফিস ভাঙার এই আকস্মিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য জনসভায় যে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কড়া মন্তব্য করেছিলেন, তার জেরে এবার তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজ্যের বর্তমান রাজনীতিতে এক অভাবনীয় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশ, সম্প্রতি আমতলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালিকানাধীন একটি সুসজ্জিত পাঁচতলা অফিস বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিষেক। তিনি অত্যন্ত চড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, “বেঁচে থাকলে সুদে-আসলে সবকিছুর হিসাব বুঝিয়ে ফেরত দেব।” তাঁর এই কড়া ও হুঙ্কারপূর্ণ মন্তব্যটি মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। শাসক দলের কোনো শীর্ষ নেতার এ ধরনের মন্তব্য প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি ব্যবস্থার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ তোলে বিরোধী শিবির।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তাঁর ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও প্ররোচনা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনা করে এবং গত কাল রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা তথা আইপিসির মোট ৮টি কঠোর ধারায় এফআইআর রুজু করে। একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এই ধরনের বহুমুখী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক সর্ষাগোল শুরু হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন দমন করতেই পুলিশ প্রশাসনকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক উপযুক্ত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং তাদের দাবি, আইনের ওপরে কেউ নন, সুতরাং অপরাধমূলক প্ররোচনা দেওয়ার জন্য যথাযথ আইনি শাস্তি সকলের জন্যই সমান হওয়া উচিত। সবমিলিয়ে, আমতলার অফিস ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই তরজা এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সেদিকেই সকলের নজর আটকে রয়েছে।