অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে মিলবে না টাকা! কোন ভুলগুলি করলেই এক ঝটকায় নাম বাদ যাবে আপনার তালিকা থেকে?

আগামী কুড়িশে আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয় প্রকল্পের আওতায় ঠিক কোন কোন যোগ্য বা অযোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতা পাবেন এবং কাদের নাম এই তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ চলে যেতে পারে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখনও তীব্র ধন্দ ও সংশয় বজায় রয়েছে। এই জটিলতা দূর করতে রাজ্য সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সরকারি দপ্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নিয়ে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হাতে এসে পৌঁছেছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রথমত, কোনো আবেদনকারী মহিলার স্বামী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, যদি ওই নির্দিষ্ট মহিলার নিজের নামে পাকা বাড়ি, চার চাকা গাড়ি বা কোনো বড় স্থাবর সম্পত্তি থাকে, তবে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে সরাসরি বঞ্চিত হবেন এবং তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ চলে যাবে। দ্বিতীয়ত, কোনো মহিলা যদি কোনো স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা বড় পদে কর্মরত থাকেন, তবে তিনিও মাসিক তিন হাজার টাকা আর্থিক ভাতার এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না।

তৃতীয়ত, কোনো মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যদি নিয়মিতভাবে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন বা অস্বাভাবিক আর্থিক আদান-প্রদানের তথ্য নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই প্রকল্পের বাইরে রাখবে। চতুর্থত, আবেদনপত্রে নামের বানানে সামান্য ভুল থাকলে, বা ভুল ও ভুয়া তথ্য বা নথি জমা দেওয়া হলে কোনো অবস্থাতেই এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চমত, যদি কেউ সচেতনভাবে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে অসদুপায়ে এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধার আওতায় চলে আসেন, তবে পরবর্তীতে তদন্তে ধরা পড়লে তাঁকে সরকারের কাছে সমস্ত প্রাপ্ত অর্থ সুদে-আসবে ফেরত দিতে হতে পারে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চলতি আগস্ট মাসের নির্দিষ্ট কোনো পেমেন্টের দিনক্ষণ বা সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাঁদের ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলতি মাসের শুরু থেকেই পর্যায়ক্রমে এই ভাতার টাকা ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাজারে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট পেমেন্টের তারিখ সংক্রান্ত ভুয়া গুজবে কান না দিয়ে বা বিভ্রান্ত না হয়ে সর্বদা সঠিক সরকারি আপডেটের অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।