“কোনও কাউন্সিলর গ্রেফতার, কেউ আত্মঘাতী”-দঃ দমদমে পুরসভায় বেহাল অবস্থা

খাতায়-কলমে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও বর্তমানে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে বড়সড় বিপর্যয়ের পর থেকেই এই পুরসভার সিংহভাগ ঘাসফুল শিবিরের কাউন্সিলররা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবার ওপর।
মোট ৩৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ইতিমধ্য়েই ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে, নানা গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে তিনি অনেক আগেই কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এর পাশাপাশি বাকি ওয়ার্ডগুলির অধিকাংশ কাউন্সিলরই সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় নিকাশি, পানীয় জল সরবরাহ থেকে শুরু করে জঞ্জাল অপসারণ—সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়া, খানাখন্দে ভরা রাস্তা এবং ইনকাম সার্টিফিকেট বা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেটের মতো জরুরি শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বিজেপি ও বাম শিবিরের পাল্টা আক্রমণ
কাউন্সিলরদের এই নিষ্ক্রিয়তার কথা একপ্রকার স্বীকার করে নিলেও শাসক শিবিরকে বাঁচাতে আসরে নেমেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দমদমের বিজেপি নেতা অনির্বাণ সমাজপতির দাবি, “কাউন্সিলররা জনপরিষেবা দিচ্ছেন না ঠিকই, তবে এলাকার বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী এবং পুরসভার সরকারি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ চালানো হচ্ছে। মানুষ যাতে পরিষেবা পান, তার জন্য বিধানসভা জুড়ে চারটি জায়গায় ‘জনতার দরবার’ করা হচ্ছে।” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে দেখে মনে হচ্ছে কাউন্সিলররা ব্যবসা করতে এসেছিল, এখন ব্যবসা উঠে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।”
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষকেই একহাত নিয়েছেন দমদমের সিপিআইএম নেতা মানব লাহা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে আদতে কোনো পার্থক্য নেই। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিজেপি পুরসভাগুলির কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। মানববাবুর মতে, “পুরনো বোর্ড ভেঙে নতুন পৌরবোর্ড বসিয়ে কাটমানি খাওয়ার ফন্দি আঁটছে এরা। সাধারণ মানুষের পরিষেবার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।” সাধারণ মানুষের স্বার্থে বামেরা অবিলম্বে রাজপথে নামবে এবং যেভাবেই হোক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।