১৪ বছর পর বিধানসভায় বিরাট মাস্টারস্ট্রোক! স্বরাষ্ট্র বাজেট নিয়ে মুখ খুলতেই বিরোধীদের ঘুম ওড়াল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

১৪ দীর্ঘ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১২ সালের পর এই প্রথমবার খোদ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার এই বিশেষ বাজেট পেশের সময় যেমন একদিকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক আধুনিকীকরণের একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, ঠিক তেমনই অন্যদিকে সুযোগ বুঝে বিধানসভার ফ্লোর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পেশ করা এই স্বরাষ্ট্র বাজেটে রাজ্যের সামগ্রিক অপরাধ দমন শাখা এবং ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যজুড়ে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির পরিকাঠামো আমূল উন্নত করা হচ্ছে। ‘ফরেনসিক তদন্ত সামর্থ্যের আধুনিকীকরণ কর্মপ্রকল্প’-এর আওতায় বর্তমানে কোটি কোটি টাকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর যন্ত্রপাতি ও উন্নত সাজসরঞ্জাম কেনা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের সমস্ত পুলিশ জেলা এবং পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ এলাকায় অপরাধের ঘটনাস্থল সরাসরি ও নির্ভুলভাবে খতিয়ে দেখার জন্য একাধিক ভ্রাম্যমাণ ফরেনসিক ইউনিট এবং অতিরিক্ত ভ্রাম্যমাণ ফরেনসিক ভ্যান সংগ্রহ করার কাজ চলছে। অপরাধের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করতে খড়্গপুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী, মুর্শিদাবাদ, সিঙ্গুর এবং মালদায় মোট ছ’টি নতুন অত্যাধুনিক আঞ্চলিক ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি স্থাপনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘জাতীয় ফরেনসিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ে তোলার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষক ঘোষণা হিসেবে বিধানসভায় জানানো হয়েছে যে, পুলিশ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট এবার পাকাপাকিভাবে কাটতে চলেছে। রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই পুলিশে নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মেধাতালিকা প্রকাশ করতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকা যে নয়টি এসএলপি (SLP)-র কারণে বিগত সরকারের আমল থেকে প্রায় ১৭১৪৩টি বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আটকে ছিল, সেগুলির আইনি জট কাটিয়ে এবার আলোর মুখ দেখতে চলেছে। নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধীনে কলকাতা পুলিশে সাব-ইনস্পেক্টর, সাব-ইনস্পেক্ট্রেস ও সার্জেন্ট পদে মোট ৩০৯ জন, কলকাতা পুলিশে কনস্টেবল ও মহিলা কনস্টেবল পদে ৩৯৫৪ জন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল পদে ১১৭৪৯ জন এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে সাব-ইনস্পেক্টর ও সাব-ইনস্পেক্ট্রেস পদে ১১৩১ জনকে দ্রুত নিয়োগ করা হবে।
প্রশাসনিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ বা জাতীয় গোয়েন্দা গ্রিড নামক একটি সুসমন্বিত তথ্য আদানপ্রদানকারী নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং যেকোনো অপরাধের তদন্ত দ্রুত সমাধান করতে বিভিন্ন মন্ত্রক ও সংস্থার কাছ থেকে অসামরিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক তথ্য নিখুঁতভাবে সংগ্রহ ও সমন্বয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, মাদকাসক্তি নির্মূল করতে একটি বিশেষ ‘মাদক বিরোধী টাস্ক ফোর্স সেল’ গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ১২টি জেলার ৬৪টি ব্লকের প্রায় ৩৯৪টি গ্রামকে নিয়ে ‘ভাইব্রান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম’ রূপায়ণ করা হবে, যা সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তাকে আরও বহুগুণ সুদৃঢ় করবে।