নীট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে বড় নমনীয়তা কেন্দ্রের! বিরোধীদের সমস্ত দাবি মেনে সংসদে বিশেষ আলোচনার ঘোষণা মোদী সরকারের!

দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় অবশেষে বড়সড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র সরকার। বিরোধীদের লাগাতার তীব্র চাপ এবং দেশজুড়ে চলা কোলাহলের মুখে নতিস্বীকার করে মোদী সরকার জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আজ বুধবার ঠিক দুপুর বারোটার সময় লোকসভার অন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন দেশের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। একই সঙ্গে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশ্যে বিশেষ আবেদন জানিয়ে বলেন যে, সংসদের সমস্ত বিরোধী ও শাসক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনা সাপেক্ষে অবিলম্বে এই বিতর্কের জন্য উপযুক্ত দিন ও সময় নির্ধারণ করা হোক।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে বিরোধীরা সংসদ চত্বর থেকে শুরু করে বাইরে এই দাবিকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে আসছিল। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল এবং সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী সাংসদ বারবার দাবি জানিয়েছিলেন যে, অবিলম্বে এই দুর্নীতি নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। শেষমেশ বিরোধীদের সেই জোরালো দাবি মেনে নিল সরকার। এদিনের এই বড় ঘোষণার আগে সকালেই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, যেখানে এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন হয়। এর পাশাপাশি, আরও একটি বড় রাজনৈতিক ಬೆಳবদল ঘটে যখন আজ সকালেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা আন্দোলনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে সরকার সংসদে আলোচনা করতে পূর্ণ সம்மতি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সোনম ওয়াংচুক শর্ত দিয়েছিলেন যে, সরকার যদি সংসদের বর্তমান বাদল অধিবেশনে শিক্ষা দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনায় রাজি হয়, তবেই তিনি তাঁর আমরণ অনশন প্রত্যাহার করবেন। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে যে তিনি কবে নিজের অনশন ভঙ্গ করেন।

সংসদের অন্দরে এই আলোচনার রূপরেখা স্পষ্ট করে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সরকার অত্যন্ত খোলা মনে বিগত তিন দিন ধরেই এই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ছিল। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে তা সর্বদা একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল নিয়মের মাধ্যমে করতে হয়। কবে এই বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং কত দীর্ঘ সময় ধরে এই চর্চা চলবে, তা সমস্ত দলের মতামত নিয়ে মাননীয় স্পিকার মহাশয় খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত করবেন।” সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা হলেও বিরোধীরা কিন্তু পিছু হটতে নারাজ। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অত্যন্ত চড়া সুরে কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে আক্রমণ করে বলেন যে, আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্রদের ওপর অকথ্য মারধর চালানো হয়েছে এবং ছাত্রীদের হেনস্থা করা হয়েছে। এই জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী দেশের যুবসমাজ নিয়ে বাইরে বড় বড় কথা বললেও সংসদে কিছু বলেন না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গোটা দেশের সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের একটাই মাত্র দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর فوری পদত্যাগ। সরকারের এই আলোচনার সম্মতি সত্ত্বেও আগামী দিনে সংসদের অন্দরে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে, তা বলাই বাহুল্য।