একাধিক পুরসভায় স্পেশ্যাল অডিটে দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ! নবান্নের কড়া পদক্ষেপে কপালে হাত অভিযুক্তদের!

রাজ্যজুড়ে পুরসভাগুলির আর্থিক কাজকর্ম এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা ও গুঞ্জনের অবশেষে বড়সড় সত্যতা মিলল। অর্থ দফতরের স্পেশ্যাল অডিট সেল-এর সাম্প্রতিক তদন্তে একাধিক পুরসভায় চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ হাতেহাতে প্রমাণিত হয়েছে। নবান্ন সূত্রে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে যে, তৃণমূল জমানার বিভিন্ন পুরনিগম ও পুরসভায় টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা, ঠিকাদারদের বিল প্রদান, বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা ধরা পড়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সরাসরি অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। দুর্নীতির এই পাহাড়প্রমাণ অনিয়মের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র বিভাগীয় তদন্তই নয়, বরং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে রাজ্য প্রশাসন। সূত্র মারফত এও জানা গেছে যে, নিখুঁত ও অকাট্য তথ্য প্রমাণের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাইবার ও ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদেরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কোনো আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর (FIR) দায়ের করে আইনি কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

রাজ্য সরকারের পালাবদল এবং প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই পুরসভাগুলির বিরুদ্ধে ওঠা বিগত দিনের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নামে অর্থ দফতরের স্পেশ্যাল অডিট সেল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি জেলার মোট ছয়টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় ব্যাপক আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, প্রশাসনিক সূত্রে এও জানা যাচ্ছে যে বর্তমানে রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও স্পেশ্যাল অডিটের কাজ সমান তালে চলছে, যেখান থেকেও অচিরেই নতুন ও আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, মূলত পুরসভা সংক্রান্ত যেকোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের অধীনে থাকা ‘ডাইরেক্টরেট অফ লোকাল বডিস’ প্রাথমিক তদন্ত করে থাকে। সেই প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিললে তবেই অর্থ দফতরের স্পেশ্যাল অডিট সেল-এর কাছে বিস্তারিত অডিটের আবেদন জানানো হয়। সেই অডিট সেলের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে, যা নিয়ে এখন নবান্নের অন্দরেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এর পাশাপাশি, গত সোমবারই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তৃণমূল জমানায় বিভিন্ন সরকারি দফতর ও রাজ্য পুলিশে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও এক বিশাল অডিটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতীয় অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগ বা পিএজি (PAG Audit-I) অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে সমস্ত বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত যতগুলি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, তার সমস্ত তথ্য আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একদিকে পুরসভার আর্থিক দুর্নীতিতে আইনি নোটিশ ও এফআইআর-এর প্রস্তুতি এবং অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে পিএজি-র এই মেগা অডিট—সব মিলিয়ে রাজ্য প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে ঘুম উড়েছে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মহলের।