পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এবার ইডির চরম নজরদারিতে মদন মিত্র! আগামী ২৯ জুলাই সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ!

রাজ্যের আলোচিত পৌর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির কেন্দ্রীয় স্ক্যানারে চলে এলেন কামারহাটির জনপ্রিয় তথা প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুলাই সকাল ১১টার মধ্যে বিধায়ক মদন মিত্রকে নিজাম প্যালেস অথবা নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শুধু বিধায়ক নিজেই নন, এই পুরো আর্থিক দুর্নীতি মামলার জেরে চলতি সপ্তাহেই মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং তাঁর দুই পুত্র স্বরূপ মিত্র ও শুভরূপ মিত্রকেও তলব করেছে ইডি। তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগেও পৌর নিয়োগ দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্তে নেমে বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক স্থাবর-অস্থাবর ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি ও হানা দিয়েছিলেন ইডির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেই সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ ও নথি খতিয়ে দেখার পরই তদন্তকারীরা এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এই তলব বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চরম গুঞ্জন শুরু হয়েছে। একদিকে যখন আইনি জালে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার নাম জড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক সমীকরণও নতুন করে সামনে চলে আসছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসকদলের অন্দরের টানাপোড়েন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাঁড়াশি অভিযানে নাজেহাল দলীয় নেতৃত্ব, ঠিক অন্যদিকে একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরকার ফাটলও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পৌর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে মদন মিত্র ও তাঁর পরিবারের ওপর ইডির এই লাগাতার চাপ এবং সমন পাঠানোর ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটকে আরও বেশি জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২৯ জুলাই ইডির তলবে হাজিরা দিয়ে মদন মিত্র ও তাঁর পরিবার এই আইনি জটিলতা থেকে নিজেদের কীভাবে রক্ষা করেন।