হাইওয়ে এবং এক্সপ্রেসওয়েতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ টোটো! যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে বড় পদক্ষেপ পরিবহন মন্ত্রীর

রাজ্যের হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে এবং যেকোনো বড় সড়কে এবার থেকে টোটো চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। মূলত বড় গাড়ি ও বাসের গতি স্বাভাবিক রাখা, ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো এবং তীব্র যানজট রোধ করার জন্যই এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বড় রাস্তাগুলিতে যদি কোনোভাবেই টোটো চলাচল করতে দেখা যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এই প্রসঙ্গে পরিবহন মন্ত্রী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে টোটো বা ই-রিকশার বিরোধিতী নন। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজনে টোটো চলতে পারে, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মেন রোডে বাস ও ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং এর ফলে প্রায়শই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। সেই কারণেই সমস্ত ডিএম এবং এসপি-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন অবিলম্বে প্রধান রাস্তাগুলি থেকে সমস্ত টোটো সরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে টোটো চালকদের অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ব্যারাকপুর এলাকার এক টোটো চালক প্রসেনজিৎ আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, “আমরা তো সবসময় রাস্তার সাইড দিয়ে চলাচল করার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রয়োজনে তো বড় রাস্তায় উঠতেই হয়। এখন যদি প্রধান রাস্তায় যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে আমাদের বিশাল অসুবিধা হবে। শুধু অলিগলিতে টোটো চালিয়ে তো আর সংসার চালানো সম্ভব নয়।” অন্য এক চালকের মতে, প্রশাসন যদি সার্ভিস রোড বা মূল রাস্তায় নামতে না দেয়, তবে তাদের রুটি-রুজির চরম সংকট দেখা দেবে। সরকারের ভালো উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও চালকদের দাবি, তাদের জীবিকা ও পেটের টানের কথা সরকারের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

অন্যদিকে, যাত্রীদের একাংশ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, যেভাবে বেপরোয়া গতিতে বড় রাস্তায় টোটোগুলি যাতায়াত করছিল এবং তাতে যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটছিল, তাতে এই নিয়ন্ত্রণ আনা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সবমিলিয়ে, প্রধান রাস্তা থেকে টোটো সরানোর এই কড়া প্রশাসনিক নির্দেশ ঘিরে একদিকে যেমন সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তেমনই কর্মসংস্থান ও রুটি-রুজি হারানো নিয়ে গভীর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ টোটো চালক।