মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সব শেষ! মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ‘গডজিলা’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী!

হলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেলি হটল, যিনি বিশ্বজুড়ে ব্লকবাস্টার ‘গডজিলা ভার্সেস কং’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমাগুলিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। বিদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার মেরিল্যান্ডে একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন অভিনেত্রীর বাবা জোশুয়া হটল। তিনি ফেসবুক লাইভ স্ট্রিমে আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে ভেঙে পড়া হৃদয়ে তাঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর সারা পৃথিবীকে জানান। তিনি আরও জানান যে, মেয়ের মরদেহ বুঝে নিতে তিনি টেক্সাস থেকে মেরিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
কেলির আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ঢেউ আছড়ে পড়েছে তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। ‘টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ’ (TSD)-এর পক্ষ থেকেও একটি বিশেষ শোকবার্তার মাধ্যমে কেলির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, কেলি এবং তাঁর বাবা উভয়েই জন্মগতভাবে কানে শোনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সক্ষম ছিলেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে তাঁদের পরিবারে শ্রবণশক্তিহীনতার এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য চলে আসছে। টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ-এর প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত ভারী হৃদয়ে আমরা জানাচ্ছি যে আমাদের স্কুলের শেষ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী কেলি হটল মেরিল্যান্ডের ফ্রেডরিকে এক পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। এই কঠিন ও বিপর্যয়কর সময়ে কেলির শোকস্তব্ধ পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং তাঁর অগণিত অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে দুর্ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় জল্পনা-কল্পনা না করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
অভিনেত্রী হিসেবে কেলি হটল বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন প্রধানত ২০২১ সালের মেগা হিট ছবি ‘গডজিলা ভার্সেস কং’ এবং ২০২৪ সালের জনপ্রিয় সিক্যুয়েল ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এ ‘জিয়া’ নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে। ওই ছবিগুলিতে জিয়া চরিত্রটি ছিল একজন বিশেষভাবে সক্ষম অনাথ শিশু, যে তার সাংকেতিক ভাষার জাদুকরী দক্ষতার মাধ্যমে দৈত্যাকার ‘কং’-এর সঙ্গে এক অনন্য গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিল এবং ড. আইলিন অ্যান্ড্রুসের তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছিল। জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্মগ্রহণকারী কেলি এমন একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বড় হয়েছিলেন যেখানে প্রত্যেকেই সাংকেতিক ভাষার ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে কেলি তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন শ্রবণশক্তিহীন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সহায়তামূলক ও প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই, যার মধ্যে ভিডিও ইন্টারপ্রেটিং পরিষেবা ‘কনভো’-র বিজ্ঞাপন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে অত্যন্ত পারদর্শী এই তরুণী তারকা ২০১৭ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের হাত ধরে বিনোদন জগতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ২০২১ সালের ‘গডজিলা ভার্সেস কং’ ছবির জন্য কাস্টিং ডিরেক্টর সারাহ হ্যালি ফিন যখন জিয়া চরিত্রের জন্য একজন প্রকৃত শ্রবণশক্তিহীন প্রতিভাবান অভিনেত্রীর সন্ধান করছিলেন, তখন থিয়েটার সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি কেলির খোঁজ পান। উল্লেখ্য, ‘কং: স্কাল আইল্যান্ড’ সিনেমার একজন সহকারী পরিচালক যিনি এর আগে ‘কনভো’-র বিজ্ঞাপনে কেলিকে দেখেছিলেন, তিনিই এই কাস্টিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তরুণ বয়সে এই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর অকালমৃত্যুতে হলিউড সহ বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।