সংসদে চরম উত্তাপ! নিট দুর্নীতি ও রাম মন্দির তহবিলের গরমিল নিয়ে বিরোধীদের মেগাহংকার!

রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন এই মুহূর্তে তীব্র সংঘাত ও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও শানিয়ে তুলেছে। যন্তর মন্তরে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত এবং প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলাকা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। পরীক্ষা কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে চ্যারিটেবল ট্রাস্টের তহবিলে গরমিলের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিতে আলোচনার দাবিতে বিরোধীরা এখন সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলাকা জানান যে, তাঁরা সংসদের অন্দরে ও বাইরে লাগাতার এই সমস্ত জনস্বার্থের বিষয়গুলি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। তাঁর দাবি, যতদিন না দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষা পদ্ধতিকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করার জন্য কোনো ठोस আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, ততদিন এই রাজনৈতিক চাপ বজায় থাকবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পরেও সরকারি তরফ থেকে আশানুরূপ কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পরেও কোনো ইতিবাচক সমাধান না আসায় বিরোধীরা তাদের সুর আরও চড়িয়েছে।
এই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন, যা আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। অধিবেশনের প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ট্রাস্টের অনুদানে দুর্নীতির মতো অভিযোগে দুই কক্ষেই তুমুল হট্টগোল শুরু হয়, যার জেরে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে বিরোধীদের প্রবল স্লোগান ও বিক্ষোভের মাঝেই লোকসভায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা বর্তমানের ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, সংসদের এই অধিবেশনে সরকারের তরফ থেকে রাজ্যসভায় ‘জাতীয় প্রতীকের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পেশ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনটি পাস হলে ১৯৭১ সালের পুরনো আইনে সংশোধন এনে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি যেকোনো ধরনের অবমাননা বা বাধা সৃষ্টিকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। সবমিলিয়ে, একদিকে বিরোধীদের তীব্র আন্দোলন এবং অন্যদিকে একাধিক নতুন বিল পেশকে কেন্দ্র করে সংসদের অন্দরমহল থেকে বাইরের রাজপথ—সব জায়গাতেই রাজনৈতিক পারদ এখন চড়ে রয়েছে তুঙ্গে।