“চিন যাওয়া নিয়ে জলঘোলা!”-লিটনের কাছে কৈফিয়ত চাইল BCB, কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে বোর্ড?

সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে এবার মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) অনুমতি ছাড়াই চিনে চিকিৎসার জন্য পাড়ি দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলার খাঁড়া নেমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন ক্ষুব্ধ বিসিবি?

পায়ের চোটের কারণে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন লিটন দাস। এমনকী শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও (LPL) তিনি অংশ নিতে পারেননি। সেই চোট সারাতেই তিনি হঠাৎ চিনে চলে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেটার বোর্ডের সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট বা চুক্তির অধীনে থাকলে, চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, লিটন দাস সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চিনে যান, যা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি বিসিবি। বোর্ডের একাংশের মতে, এটি স্পষ্টতই শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং আদর্শ আচরণবিধি পরিপন্থী।

কী বলছে বোর্ড?

যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনই কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ বোর্ড কর্তারা। বিসিবি পরিচালক সিরাজুদ্দিন মহম্মদ আলমগির জানিয়েছেন, লিটন দাসের কাছে এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। এখন মেডিক্যাল কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বোর্ডের অনুমান, লিটন হয়তো সত্যি কথাই বলেছেন।

এছাড়া বোর্ডের নীতিনির্ধারক মহলের মতে, লিটন দাস দীর্ঘকাল ধরে দেশের হয়ে খেলছেন এবং অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে বড় কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড নেই। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁর পুরোনো সুনামের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে বিষয়টি ছোট হলেও ভবিষ্যতে যাতে অন্য ক্রিকেটাররা আরও সতর্ক থাকেন এবং বোর্ডের নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলেন, সেই কড়া বার্তাটি নিশ্চিত করতে চায় বোর্ড সভাপতি ও কতৃপক্ষ।