ছাদেই জীবন শেষ! গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর তুমুল ঝগড়া, মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ রাজধানী

রাজধানী দিল্লির পূর্ব গান্ধী নগর এলাকায় এক গভীর রাতে ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনা। রবিবারের সেই রাতে একটি চারতলা বাড়ির খোলা ছাদে ঘুমাতে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু কে জানত যে সেই রাতের ঘুম তাঁদের জীবনের শেষ ঘুমে পরিণত হবে? পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছাদে ঘুমাতে যাওয়ার কিছু সময় পরেই ওই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। আর ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিপত্তি। ছাদ থেকে রহস্যজনকভাবে নিচে পড়ে যান দুজনেই। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই স্বামীর করুণ মৃত্যু হয়েছে, আর তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির নাম বরুণ শর্মা এবং তাঁর আহত ২৯ বছরীয় স্ত্রীর নাম গীতা। এই দম্পতি পূর্ব দিল্লির গান্ধী নগর থানা এলাকার অন্তর্গত ওল্ড সীলমপুরের নানক বস্তি অঞ্চলে নিজেদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেই বসবাস করতেন। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পরিবারের সকলের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ওই দম্পতি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নিচের ঘরের মানুষজন তাদের দুজনের মধ্যে তীব্র উচ্চস্বরে ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি শুনতে পান। এর ঠিক পরপরই বাড়ির সিঁড়ি ও নিচের গলিতে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার একটি বিকট শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা।

শব্দ পেয়ে পরিবারের লোকজন তৎক্ষণাৎ বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বাড়ির নিচের সরু গলিতে বরুণ ও গীতাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কালবিলম্ব না করে পরিবারের বাকি সদস্যরা তাঁদের দুজনকে সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে বরুণকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, স্ত্রী গীতার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জিটিবি (GTB) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁর জীবন বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গভীর রাতে ঝগড়ার সময় উত্তেজনার বশে ভারসাম্য হারিয়ে তাঁরা দুজনেই নিচে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে কেউ কাউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে কি না, নাকি এটি নিছকই একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যদিও মৃত বরুণের পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধমূলক বা খুনের অভিযোগ তোলা হয়নি, তবুও পুলিশ কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

ডক্টর হেডগেওয়ার হাসপাতাল থেকে একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) বা সাধারণ ডায়েরি দায়ের হওয়ার পরেই এই রহস্যজনক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বরুণের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জিটিবি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশি সূত্রে আরও জানা গেছে যে, বরুণ ও গীতার বিয়ে হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। দীর্ঘ সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি আড়াই বছরের ফুটফুটে ছেলেও রয়েছে। এত বড় একটি ঘটনার পর ওই ছোট্ট শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। পুলিশ এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী গীতার বিস্তারিত জবানবন্দি হাতে আসার পরেই এই ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্য সামনে আসবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।