দিল্লিতে রণক্ষেত্র! সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ, বন্ধ ৫ মেট্রো স্টেশন

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাল রাজধানী। NEET কেলেঙ্কারি ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল যন্তর মন্তর এলাকা। বিক্ষোভকারীদের থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

সকাল থেকেই উত্তজনা: সোমবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে জড়ো হতে থাকেন সিজেপি সমর্থকরা। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ও আরপিএফ-এর সাথে তাঁদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

বন্ধ ৫টি মেট্রো স্টেশন: আন্দোলনকারীদের সংসদ অভিযানের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে এবং দিল্লিতে জননিরাপত্তা রক্ষায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে রাজধানী দিল্লির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন—জনপথ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের এক্স হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই ধরণের বিক্ষোভ এড়াতে দিল্লি পুলিশ আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছিল। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর করে সমগ্র নয়াদিল্লি এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যন্তর মন্তর, বিজয় চক ও সংসদ ভবনের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর দ্বারা।

বিক্ষোভের নেপথ্যে: সিজেপি-র অভিযোগ, NEET পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই ঘটনায় দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগের দাবি নিয়ে তারা সংসদের দিকে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সিজেপি লিখেছিল, “ভারী বৃষ্টি বা কড়া নিরাপত্তা—আজ কিছুই ককরোচদের থামাতে পারবে না।” তবে বাস্তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কাছে আন্দোলনকারীরা আপাতত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।