অবিশ্বাসের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার! অটল বিশ্বাসের জয়গানে বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ বিষ্ণু দেও সায়ের

ছত্তিশগড় বিধানসভায় অবিশ্বাসের প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সায়ে যেভাবে সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অবিশ্বাসের প্রস্তাব আসলে কোনো নির্দিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং রাজ্যের তিন কোটি সাধারণ মানুষের রায় এবং তাদের অটল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক লোকসভা ও পুরসভা নির্বাচন পর্যন্ত—প্রতিটিতেই মানুষ উন্নয়নের পথে হাঁটার পক্ষেই রায় দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘গ্যারান্টি’-র ওপর আস্থা রেখেছেন।

বিগত আড়াই বছরের শাসনকালে মোদীর প্রতিশ্রুতি কীভাবে রাজ্যের প্রতিটি কোণে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে আদিবাসী কল্যাণ, কৃষি এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নে সরকার যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিরোধীদের যুক্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কৃষকদের জন্য ৩১০০ টাকা কুইন্টল দরে ধান কেনা এবং দু’বছরের বকেয়া বোনাস পরিশোধ করার মতো সিদ্ধান্ত কৃষকদের ঘরে সমৃদ্ধি ফিরিয়েছে। পাশাপাশি, ‘মহতারি বন্দন’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭০ লক্ষ মহিলার হাতে ১৮,৮০০ কোটি টাকা তুলে দিয়ে সরকার নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার এক নতুন পথ প্রশস্ত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী গর্বের সাথে জানান, ১০ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি নারীকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং রেজিস্ট্রি ও স্ট্যাম্প শুল্কে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে নারীদের সম্পত্তির অধিকারকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আদিবাসী সমাজকে মূলস্রোতে আনতে ‘ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান’ এবং ‘পিএম জনমন’ প্রকল্পের মাধ্যমে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সুবিধাগুলি দুর্গম গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করায় ৮ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে রাজ্য, যা আগামী দিনে কয়েক লক্ষ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করবে। সেমিকন্ডাক্টর, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো আধুনিক শিল্পে ছত্তিশগড়কে গ্লোবাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে সরকার রেকর্ড সাফল্য পেয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনায় হাজার হাজার ঘরে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং পাওয়ার জেনারেশনের ক্ষেত্রে রাজ্য দেশে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। খনিজ সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে এবং অবৈধ খনন রুখতে নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ‘সেবা সেতু’-র মাধ্যমে ৫২৮টি সরকারি পরিষেবা মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়কে ‘সুশাসনের মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রামলালা দর্শন যোজনায় হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণ এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে সাত কোটি চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে রাজ্য তার সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।