এবার ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারের যৌথ লড়াই! ভারতের স্বাস্থ্য ও কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পথে নয়া উদ্যোগ

ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। দেশের শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কেন্দ্র সরকার ঘোষণা করলো ভারতের প্রথম ‘ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজি’ (Engineering Biology) কোর্স। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতের কর্মবাজার ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের কথা মাথায় রেখেই এই কোর্সটিকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

নীতি আয়োগের এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, এই কোর্সটি বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির যে দ্রুত বিবর্তন ঘটছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শুধুমাত্র তত্ত্বীয় পাঠ নয়, বরং অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি ও হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে এই নতুন পাঠক্রমে। একইসঙ্গে, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি (IIT) ও আইআইএসসি (IISc)-র তরফ থেকে মেডিকেল স্কুল শুরু করার প্রস্তাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ড. জিতেন্দ্র সিং জোর দিয়ে বলেছেন যে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা এখন অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, উন্নত এমআরআই (MRI) বা আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের আধুনিকায়নে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়াররা রেডিওলজিস্টদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় ভারতের তৈরি বিশ্বের প্রথম ডিএনএ ভ্যাকসিন তারই সাফল্যের প্রমাণ। এখন সিনথেটিক বায়োলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বায়ো-ম্যানুফ্যাকচারিং-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ভারতের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের ‘বায়োইকোনমি’-কে ২.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিজ্ঞানী, শিল্পপতি ও গবেষকদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টায় এই গবেষণাগুলিকে দ্রুত ল্যাব থেকে বাজারে নিয়ে আসা হবে। মন্ত্রী আশাবাদী যে, এই ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজি কোর্স ভারতকে বিশ্বমঞ্চে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত করবে। এটি কেবল একটি শিক্ষা প্রকল্প নয়, বরং এটি ভারতের আগামীদিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।